নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী সোমবার ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন। সকাল ১১ টা থেকে শুরু হবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া। শুক্রবার এমনটাই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি অমৃতা সিংহ জানান, পুরুলিয়ার জেলাশাসক এবং পুলিশ প্রশাসনের নজরদারিতে হবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া। এমনকি গোটা নির্বাচন ভিডিওগ্রাফি করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Babita Sarkar: কার ভুলে চাকরি যাবে ববিতার? আজ ভাগ্য নির্ধারণ
গত ২১ নভেম্বর ঝালদা পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে কংগ্রেস। অপসারিত হন তৃণমূলের পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল। এরপর থেকেই নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। দুই দলের তরফে পুরপ্রধান মনোনীত করা হয়। জবা এবং শীলা একসঙ্গে ঝালদা পুরসভায় উপস্থিত হন। দুই দলের মধ্যে এই টানাপোড়েনের মাঝে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের উদ্দেশ্যে চিঠি লেখেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

রাজ্যপালকে চিঠি পাঠানো ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঝালদা পুরসভা নিয়ে স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। জেলাশাসককেই ঝালদা পুরসভার দায়িত্ব দেওয়া হবে। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভায় পুরপ্রধান এবং উপ পুরপ্রধান দু’জনেই পদত্যাগ করেছেন, তাই সেখানে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করবে। তাতেই স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।

উল্লেখ্য, পুরভোটের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নজর কেড়েছিল ঝালদা পুরসভা। নিহত কাউন্সিলর তপন কান্দুর সেই ঝালদা পুরসভা এখন রাজ্য রাজনীতির নজরে। ১২ আসনের ঝালদা পুরসভায় তৃণমূল ও কংগ্রেস ৫ টি করে আসনে জয়লাভ করে। বাকি দুটি জেতে নির্দল। সেখানে প্রথমে তৃণমূলের বোর্ড গঠন করে। পরে তৃণমূলের চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিল বিরোধীরা।
গত নভেম্বর মাসে তৃণমূল পুর প্রধান সুরেশ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল কংগ্রেস সহ নির্দলের কাউন্সিলররা। পরবর্তীতে নতুন পুরপ্রধান বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে শুরু করেছিল। ২১ নভেম্বর কংগ্রেস আস্থাভোটে সংখায় গরিষ্ঠতা প্রমাণ করে। তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করেন নির্দল প্রার্থী শীলা চট্টোপাধ্যায়। পরে সাত কাউন্সিলরের সমর্থনে ৩ ডিসেম্বর পুরপ্রধান পদে নির্বাচিত হন শীলা চট্টোপাধ্যায়।
সোমবার ঝালদার চেয়ারম্যান নির্বাচন, নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রশাসক পদে জবা মছুয়াকে আনার পরেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। রাজভবনের হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে জোড়া চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অভিযোগ, সমস্ত পুর বিধি-আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্বাচিত পুরপ্রধানের বদলে ঝালদা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস।



