প্রকাশ্যে মানসিক নির্যাতনের ‘পত্রবোমা’, কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই হুমকি আইনজীবীকে!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কলকাতা হাই কোর্টে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার দেখা গিয়েছিল সেদিন। পোস্টারে লেখা ছিল ‘কল্যাণের দাদাগিরি মানব না’, ‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিপাত যাক’। পরে ১৫৭ জন আইনজীবীর সাক্ষর সহ কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি থেকে বরখাস্ত রিতেশ ও জয়প্রকাশ, বিক্ষুব্ধদের ঝোপে কাটা পড়ল দুই

তৃণমূল লিগ্যাল সেলের এই ১৫৭ জন আইনজীবীর দাবি, দলীয় নেতৃত্বের তরফে শীঘ্রই ব্যাবস্থা নেওয়া হোক শ্রীরামপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে। কল্যাণের ক্রমাগত দুর্নীতি, লাঞ্চনা আর স্বজনপোষনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন এই আইনজীবীরা। কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে হাই কোর্টে পরিবারের সদস্যের জন্যও চেম্বার করে দিয়েছেন। পাশাপশি, সিন্ডিকেট রাজ চালানো, মহিলা আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছিল আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

হাই কোর্টের আইনজীবীদের এই অভিযোগপত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ। এমনিতেই অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার পড়েছিল কল্যাণের বিরুদ্ধে, পুড়েছিল কুশপুতুল। তার উপর গোয়াতে বসে অভিষেকের বার্তা কল্যাণের সেই অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণ। কিছুদিন আগে কল্যাণ বলেছিলেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাউকে নেতা মানেন না তৃণমূলে।

গোয়া থেকে কল্যাণের সেই মন্তব্য সমর্থন করে অভিষেক বলেন,  “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাউকে নেত্রী হিসেবে মানেন না। এতে অসুবিধার কী আছে? তিনি তো ঠিকই বলছেন। আমিও বলছি আমার নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমিও বাকি কাউকে মানি না। উনি যদি আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তবে প্রমাণিত আমাদের দলে গণতন্ত্র আছে।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরে দলের মধ্যে আরও ড্যামেজ হয় কল্যাণের স্থান। সেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে গত কয়েকদিন ধরেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ব্যাপক প্রশংসা শোনা যাচ্ছে শ্রীরামপুরের সাংসদের মুখে। তবে এবার যা হল তাতে তিনি যে দলনেত্রীকে উপেক্ষা করছেন গোপনে সেই অভিযোগ আবার প্রকাশ্যে এল! কার্যত নজিরবিহীন অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে।

যে আইনজীবীরা সাক্ষর করেছিলেন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লেখা অভিযোগ পত্রে তাঁদের কয়েকজনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। জানা গিয়েছে, এই ১৫৭ জন আইনজীবীর একজন, নাম শুভেন্দু সেনগুপ্ত, গত ২১ জানুয়ারি সাতসকালে সুপ্রিম কোর্ট – হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে স্বাক্ষরকারী ১৫৭ জনের মধ্যে থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার আর্জি জানান। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, অভিযোগ পত্রের প্রথম দুই পাতার কোনও লেখা না পড়েই তিনি সই করেছিলেন!

২১ তারিখ সকালে লেখা চিঠির পর একই দিন সন্ধ্যায় আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্ত আর একটি চিঠিতে প্রকাশ করেন কেন তাঁর আচমকা নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাবে লিখেছেন তাঁকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লেখা চিঠি থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্যে। কিন্তু কে দিল সেই মানসিক চাপ? চিঠিতে খোলসা না করলেও আইনজীবীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষান্ন বন্দোপাধ্যায়ের হুমকি পেয়েছিলেন তিনি! এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কানাঘুষো আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। কারন এধরনের কার্যকলাপ যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের একেবারেই না পসন্দ তা বিলক্ষণ জানেন তৃণমূলের সব মহলের নেতা কর্মীরা।

আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্তর লেখা সকালের চিঠি।

আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্তর লেখা সকালের চিঠি।
আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্তর লেখা সকালের চিঠি।
প্রকাশ্যে মানসিক নির্যাতনের 'পত্রবোমা', কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই হুমকি আইনজীবীকে!
প্রকাশ্যে মানসিক নির্যাতনের ‘পত্রবোমা’, কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই হুমকি আইনজীবীকে!

প্রকাশ্যে মানসিক নির্যাতনের ‘পত্রবোমা’, কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই হুমকি আইনজীবীকে! আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্তর লেখা বিকেলের চিঠি।

প্রকাশ্যে মানসিক নির্যাতনের 'পত্রবোমা', কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই হুমকি আইনজীবীকে! আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্তর লেখা বিকেলের চিঠি।
প্রকাশ্যে মানসিক নির্যাতনের ‘পত্রবোমা’, কল্যাণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই হুমকি আইনজীবীকে! আইনজীবী শুভেন্দু সেনগুপ্তর লেখা বিকেলের চিঠি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন