হকার পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে ফের রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরগরম পরিস্থিতি। দোকান ও জীবিকা হারানো হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার মেট্রোপলিটন বাইপাসে অবস্থিত তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে এই আন্দোলনের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ তথা শ্রমিক সংগঠনের নেত্রী দোলা সেন (Dola Sen)-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রায় ২০০ জন হকার উপস্থিত ছিলেন। জীবিকা হারানো হকারদের একত্রিত করে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
হকারদের অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না করেই বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে আসছেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এদিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংগঠনের একাংশের দাবি।
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, মিছিল এবং গণঅবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হতে পারে। আগেও হকারদের সমর্থনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে নতুন আন্দোলন আরও বড় আকার নিলে তিনি সেখানে যোগ দেন কি না, সেদিকেও নজর রাজনৈতিক মহলের।
এদিকে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত জানিয়েছে, বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ যেসব রেল সংক্রান্ত উচ্ছেদ নোটিস নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলিতে জুন মাস পর্যন্ত পূর্বের নোটিস কার্যকর করা যাবে না।
একই সঙ্গে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ফলে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কার্যকর থাকলেও হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।






