ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি-র মৃত্যুর পর থেকে উত্তাল বাংলাদেশ। এই আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার জানানো হয়েছে, হাদি হত্যা মামলার বিচার ও শুনানি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টেই সম্পন্ন করা হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই মামলায় যাতে দ্রুত চার্জশিট, সাক্ষ্যগ্রহণ ও রায় দেওয়া যায়, সে কারণেই বিশেষ দ্রুতগতির আদালতে বিচার চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাদির মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই প্রশাসনের এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।
এর ঠিক আগে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংবাদিক বৈঠক করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “হাদির হত্যার সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।” তাঁদের দাবি মানা না হলে রাজপথে নামার ডাকও দেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, জাবের ওই বৈঠকে আরও বলেন, “আগে বিচার, তারপর নির্বাচন—এর বাইরে কোনও সমাধান নেই।” তাঁর বক্তব্য, অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও সমর্থন নির্ভর করবে হাদি হত্যাকাণ্ডে তারা কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে পারে তার উপর।
ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে মানুষ ইউনূসের উপর আস্থা রেখেছে। কিন্তু এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে সরকার দোদুল্যমান—এই বার্তাই দেওয়া হয় মঞ্চ থেকে।
জাবের আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত যদি বাংলাদেশে থাকে, অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। আর যদি সে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তবে তাকে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা—যেমন এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবা উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করার সরকারি ঘোষণাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ দেখছে চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবে। তবে সরকারপক্ষের দাবি, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার কত দ্রুত শেষ হয় এবং তার প্রভাব আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের উপর কীভাবে পড়ে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ।