পণ্য পরিষেবা কর বা জিএসটি কাঠামোয় অবশেষে বড় রদবদল আনল কেন্দ্র। বুধবার জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ঘোষণা করেন, স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমায় আর কোনও জিএসটি থাকছে না। শুধু তাই নয়, রুটি, দুধ, পনির, চিজসহ প্রাথমিক খাদ্যপণ্যেও কর সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৩৩টি জীবনরক্ষাকারী ওষুধেও কর শূন্য করে দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের চাপের ফলেই। দলের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এটি মানুষের জয়, বধির শাসকের বিরুদ্ধে জয়। প্রথম দিন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। অবশেষে সরকারকে নতিস্বীকার করতে হল।”


অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতেই এই সংস্কার আনা হয়েছে। নির্মলা সীতারমণ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ১৭৫টিরও বেশি পণ্যের দাম কমতে পারে।
খাদ্যপণ্যের দাম কমছে
১৮ এবং ১২ শতাংশ জিএসটি থেকে কমে ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে তেল, ঘি, মাখন, নুডলস, পাস্তা, বিস্কুট, চানাচুর, ভুজিয়া, নিমকিসহ একাধিক জনপ্রিয় খাবারের কর। ফলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এগুলির দাম কমবে বলে অনুমান।
প্রয়োজনীয় দ্রব্যেও ছাড়
সাবান, শ্যাম্পু, টুথব্রাশ, শেভিং ক্রিমের মতো প্রতিদিনের ব্যবহার্য পণ্যের জিএসটি কমে দাঁড়াল ৫ শতাংশে। এর পাশাপাশি বাসন, সেলাই মেশিন, ট্র্যাক্টর, কীটনাশক ও কৃষিজ দ্রব্যতেও একই হার কার্যকর করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রের পণ্যে কর কমায় সবজি ও শস্যের দামও কমতে পারে বলে আশা।


চিকিৎসা সরঞ্জামে স্বস্তি
থার্মোমিটার, মেডিক্যাল অক্সিজেন, টেস্ট কিট, গ্লুকোমিটার ও চশমার মতো চিকিৎসা সামগ্রীতেও জিএসটি কমে হল মাত্র ৫ শতাংশ। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হাসপাতাল পর্যন্ত সবাই উপকৃত হবেন।
শিক্ষা খাতে স্বস্তি
পড়ুয়াদের সুবিধার্থে খাতা, কলম, রবার, ম্যাপ—এসব শিক্ষা সামগ্রীর উপর থেকে সম্পূর্ণ জিএসটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পড়াশোনার খরচ কিছুটা হলেও কমবে।
দামী পণ্যে চাপ বাড়ল
তবে সব ক্ষেত্রে স্বস্তি নয়। কোল্ডড্রিঙ্কস, পানমশলা, গুটখা, সিগারেট, জর্দা, বিড়ি, বড় দামী গাড়ি ও ৩৫০ সিসির বাইকের উপর জিএসটি বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এই পণ্যগুলির দাম আরও বেড়ে যাবে।
রাজনৈতিক তরজা শুরু
জিএসটি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে কেন্দ্র মাথানত করেছে। বিজেপি শিবির অবশ্য বলছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থেই মোদি সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সত্যিই কি মানুষের চাপেই এই সিদ্ধান্ত, নাকি মধ্যবিত্তের প্রতি কেন্দ্রের সদিচ্ছা—এই বিতর্ক নিয়েই এখন সরগরম রাজনীতি। তবে একথা নিশ্চিত, নতুন জিএসটি কাঠামো কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব পড়বে চোখে পড়ার মতো।







