গ্রিনল্যান্ডে যুদ্ধের প্রস্তুতি! মার্কিন সেনাঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান পাঠাল আমেরিকা, পালটা সেনা বাড়াল ডেনমার্ক

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান পাঠাল আমেরিকা, পালটা সেনা বাড়াল ডেনমার্ক। ট্রাম্পের হুমকির আবহে উত্তপ্ত উত্তর মেরু।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তর মেরুর বরফঢাকা দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনা। হুমকি ও পালটা হুঁশিয়ারির আবহে এবার কার্যত সামরিক বার্তা দিল আমেরিকা। গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে পালটা পদক্ষেপ করেছে ডেনমার্ক—তারা ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের দিকেই কি এগোচ্ছে পরিস্থিতি?

সোমবার North American Aerospace Defense Command (NORAD) জানায়, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত পিতুফিক মার্কিন সেনাঘাঁটিতে সামরিক বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে। এই ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও নোরাডের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি ‘পূর্বপরিকল্পিত সামরিক কার্যক্রম’-এর অংশ, তবে কী ধরনের অভিযান বা মহড়ার প্রস্তুতি চলছে—সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

কিন্তু কূটনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই। কারণ গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে নাছোড় অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর লাগাতার মন্তব্য ও হুমকির আবহে পিতুফিকে যুদ্ধবিমান পাঠানো নিছক রুটিন সামরিক পদক্ষেপ বলে মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

পালটা প্রতিক্রিয়ায় গ্রিনল্যান্ডের ‘অভিভাবক রাষ্ট্র’ ডেনমার্ক জানিয়েছে, তারা দ্বীপটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডেনমার্ক আবার আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো-র অন্যতম সদস্য। ফলে একই জোটের দুই সদস্য দেশের এমন সামরিক শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গ্রিনল্যান্ড যদিও ভৌগোলিক ভাবে উত্তর আমেরিকার কাছাকাছি, রাজনৈতিক ভাবে তা ডেনমার্কের অধীন। সেই গ্রিনল্যান্ডেই আবার রয়েছে আমেরিকার সেনাঘাঁটি এবং মোতায়েন মার্কিন সেনা। এই ত্রিমুখী সমীকরণেই তৈরি হয়েছে বর্তমান টানটান পরিস্থিতি।

উত্তেজনা আরও বেড়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। সোমবার ‘রুশ আগ্রাসন’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,
“আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বহু বছর ধরে ডেনমার্ককে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্ক করেছে। কিন্তু ডেনমার্ক তা গুরুত্ব দেয়নি। এবার সময় এসেছে…”

এই ‘সময় এসেছে’ কথার ব্যাখ্যা তিনি না দিলেও, তার পর থেকেই জল্পনা তীব্র হয়েছে। সামরিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের পর পিতুফিক ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান পাঠানো নিছক কাকতালীয় নয়।

এর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতার জেরে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে সামরিক শক্তি প্রদর্শন—দুই মিলে পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলছে।

সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড এখন শুধু বরফের দ্বীপ নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম হটস্পট। যুদ্ধ সত্যিই আসন্ন কি না, তা এখনই বলা না গেলেও—উত্তর মেরুর আকাশে যে যুদ্ধের মেঘ জমছে, সে বিষয়ে একমত কূটনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর