নজরবন্দি ব্যুরোঃ বৃহস্পতিবার হাওড়া শিবপুরের পর রবিবার হুগলীর রিষড়া। রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে রণক্ষেত্র দুই জেলা। যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। এমত অবস্থায় কড়া মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর কথায়, যাঁরা সাধারণ মানুষের শান্তি বিঘ্নিত করবেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ Rishra: রিষড়া জুড়ে জারি ১৪৪ ধারা, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা, ট্রেন না পেয়ে দুর্ভোগে যাত্রীরা


বুধবার উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার কথা ছিল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের। সমাবর্তন অনুষ্ঠান ছাড়াও উত্তরবঙ্গে জি-২০ সামিট উপলক্ষে যে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাতেও যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নতুন করে রিষড়ার উত্তপ্ত হতেই সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখান থেকেই রিষড়ার পরিস্থিতি খতিয়ে এখতে যান তিনি।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, রিষড়ায় অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাউকেই রেয়াত করা হবে। রাজ্যপাল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন মানুষের শান্তিতে বাঁচারর অধিকার রয়েছে। যারা শান্তি বিঘ্নিত করবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজ্যে শান্তিরক্ষা করতে সকলকে একজোট হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যপাল আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে, তা আমাদের সকলের জানা। আমরা কখনওই সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করতে দেব না, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেব না। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে শান্তিরক্ষা করব। বাংলার মানুষ এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে না। যে কোনও মূল্যেই শান্তি নিশ্চিত করা হবে।


দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কড়া মন্তব্য রাজ্যপালের

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে রিষড়ার রেল স্টেশনের কাছে ৪ নম্বর গেটে অশান্তি ছড়ায়। চন্দননগর কমিশনারেট, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ, রেল পুলিশের যৌথ অভিযানে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল থেকে এলাকা জুড়ে টহল দিচ্ছে বিরাট পুলিশ বাহিনী। সকাল থেকেই রিষড়া জুড়ে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। জায়গায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নিরাপত্তা। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশের সঙ্গে রয়েছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ, হাওড়া পুলিশ। এমনকী ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশের একটি দলও রয়েছে সেখানে। যে কোনও অশান্তি রুখতে মোতায়েন করা হয়েছ বিরাট পুলিশ বাহিনী।








