নজরবন্দি ব্যুরোঃ সরকারি চাকুরির পরীক্ষা বাংলায় ভাষায় দেওয়ার সুযোগ করতে হবে। গত তিন বছর যাবৎ এই দাবী নিয়ে লড়াই করছে বাংলাপক্ষ। এবার বাংলাপক্ষের এই দাবিতে সহমত দিয়ে পাশে দাড়ালেন বাংলার লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতশিল্পীরা। ভিডি বার্তার মাধ্যমে একে একে তাঁরা সকলে তাঁদের মতামত জানাচ্ছেন। এই তালিকায় রয়েছেন জয় গোস্বামী, মনোরঞ্জন ব্যাপারী, গায়ক সিধু, সুবোধ সরকার ও পবিত্র সরকারের মতো ব্যক্তিত্বরা।
আরও পড়ুনঃ ওপার বাংলার মতো ভাষাদিবসে ‘একুশে বই উৎসব’ এবার দক্ষিণ কলকাতায়।


২০২০ সালে ১২ ও ১৩ই ডিসেম্বর নারী ও শিশু সুরক্ষা দফতরের আয়তাধীন ICDS-এর পরীক্ষায় বাংলা ভাষাকে বঞ্চনা নিয়ে প্রতিবাদ দেখিয়েছিল বাংলাপক্ষ। বাংলাপক্ষ সংগঠনের কৌশিক মাইতি জানান, ‘ICDS নিয়োগের পরীক্ষায় বাঙালির বঞ্চনা সমস্ত কল্পনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশ্যে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে বহু বাঙালি পরীক্ষার্থীদের। বাংলা ভাষার প্রশ্নপত্রে কোনও অপশন-তো নেই, উত্তর দিতে হবে প্রতিটা প্রশ্নেরই। কিন্তু হিন্দির ক্ষেত্রে প্রচুর অপশন ছিল। প্রতিটা ক্ষেত্রে ৮ টা প্রশ্নের মধ্যে ৫ টি করতে হবে। মানে একজন সহজেই হিন্দি ভাষার পেপারে প্রচুর নম্বর পেতে পারে এবং পরীক্ষার কাট অফ মার্কস পেতে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।’
সরকারি চাকরির পরীক্ষা নিতে হবে বাংলাতে, এবার প্রতিবাদে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা। কৌশিক বলেছিলেন, ‘বাঙালিকে এই বঞ্চনা কেন? হিন্দিভাষীদের এই অতিরিক্ত সুবিধা পাইয়ে অনৈতিকভাবে চাকরি পাওয়ানো হচ্ছে কেন? নিজের মাটিতে, নিজের রাজ্যে বাঙালি চাকরি পাবে না কেন ? রাজ্য সরকারি চাকরি পাবে বহিরাগতরা? বিহার-উত্তরপ্রদেশের মানুষের ভোটেই কি নির্বাচিত হয় বাংলার সরকার? পিএসসি কর্তৃপক্ষরা প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখেনি?
PSC-এর প্রশ্নপত্রের কোনো গাইডলাইন নেই? এই দুর্নীতিতে কারা কারা যুক্ত? বাংলা পক্ষ এই ইস্যুতে বাঙালি সহ সকল ভূমিসন্তান চাকরি প্রার্থীদের সাথে লড়ছে। এই বঞ্চনা আমরা আর মানবো না।’ সংগঠনের তরফে আরও জানানো হয়েছিল, PSC-এর চেয়ারম্যানকে এই ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এটা কোনও ব্যাপার না’। তিনি গোটা বিষয়টাকে সম্পুর্ণ ভেবে বলে এড়িয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ বাংলাপক্ষের।









