দক্ষিণ কলকাতার গলফগ্রিনে রবিবার দুপুরে সামনে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণ ও এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাট থেকে মদ্যপ অবস্থায় দুই যুবককে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে, আর তারই মধ্যে ফ্ল্যাট থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম মহম্মদ দিলশাহ। তিনি তিলজলার বাসিন্দা। তবে গলফগ্রিনের ওই ফ্ল্যাটে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ফ্ল্যাটটি তিনি ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় পরিচিতদের নিয়ে সেখানে আসতেন।
রবিবার সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয় দুই দেহ। একটি মহম্মদ দিলশাহর, অন্যটি এক তরুণীর। মৃত তরুণীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁর সঙ্গে দিলশাহর সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, ফ্ল্যাটের ভিতরে আরও দুই যুবক রয়েছেন। তাঁদের মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তাঁদের কাছ থেকেই মিলতে পারে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাট তল্লাশি চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। সেই কারণে মৃত্যুর ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত নেশাজনিত সমস্যা নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা। তবে চারজন ওই ফ্ল্যাটে কেন একত্রিত হয়েছিল, সেখানে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে কোনও বিবাদ বা অন্য ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় বহু ফ্ল্যাটের মালিক বাইরে থাকেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেই ফ্ল্যাটগুলি ভাড়ায় দেওয়া হয়। ফলে কে আসছে, কে যাচ্ছে, তার উপর কার্যত কোনও নজরদারি থাকে না।
স্থানীয়দের দাবি, সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি। গলফগ্রিনের এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় সেই অভিযোগ ফের সামনে এসেছে।
তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ফরেন্সিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রহস্যজনক এই মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা জানতে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং গ্রেপ্তার দুই যুবকের জিজ্ঞাসাবাদের উপরই ভরসা করছে পুলিশ।



