সোনার বাজারে ফের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। ২৯ অক্টোবর, ২০২৫-এ কলকাতার গয়নার বাজারে প্রতি গ্রাম হলমার্ক সোনার গয়নার দাম দাঁড়িয়েছে ₹১১,৩২৫ টাকা। অর্থাৎ ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৫০ টাকা। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ২৫০০ টাকার রেকর্ড বৃদ্ধি।
গতকাল অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর, প্রতি গ্রাম হলমার্ক সোনার গয়নার দাম ছিল ₹১১,০৭৫ টাকা এবং ১০ গ্রামের দাম ছিল ₹১,১০,৭৫০ টাকা। আজকের হালনাগাদ দামে সেই সোনাই আরও মহার্ঘ হয়ে উঠেছে। ফলে উৎসব মরশুমে গয়না কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ববাজারে ডলারের মান কমা, মার্কিন বন্ডের রিটার্ন হ্রাস, এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সোনার দাম বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স সোনার দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ২৩২০ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮৫ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলার দুর্বল হলে এবং তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় বাজারে সোনার দামে স্বাভাবিকভাবেই উল্লম্ফন দেখা যায়।
কলকাতার বাজারেও সেই প্রভাব পড়েছে স্পষ্টভাবে। শহরের বেশিরভাগ স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন, বিগত কয়েক মাস ধরে সোনার দাম প্রতি সপ্তাহেই অন্তত ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই একদিনে ২৫০০ টাকার বৃদ্ধি তাই ব্যতিক্রম নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারের প্রতিফলন।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “এখন অনেকেই বিনিয়োগের জন্য সোনার দিকে ঝুঁকছেন। শেয়ার মার্কেট অস্থির হওয়ায় সোনার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে জোগান এবং চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।”
তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রানীতি স্থিতিশীল হলে এবং মার্কিন সুদের হার পরিবর্তন ঘটলে সোনার দামে আংশিক পতন দেখা দিতে পারে।
তবুও বর্তমানে দেশের ক্রেতাদের কাছে সোনা যেন “সেভিংস অ্যান্ড সেফটি”— উভয় ক্ষেত্রেই অন্যতম প্রিয় সম্পদ। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, “স্টক মার্কেট বা মিউচুয়াল ফান্ডে অনিশ্চয়তা থাকলে সোনাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।”
এদিকে, সোনার দামের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিয়ের মরশুমে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের সমস্যায় ফেলেছে। গয়নার দোকানগুলিতে আগের তুলনায় কেনাকাটা কিছুটা কমেছে। বহু পরিবারই এখন অল্প পরিমাণে সোনা কিনে “গোল্ড সেভিং স্কিমে” বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
একাধিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে, যদি ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— ক্রেতারা এখনই বড় অঙ্কের কেনাকাটা না করে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করতে পারেন। সব মিলিয়ে সোনার দামের উত্থান এখন দেশের অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।



