কলকাতা | ১৩ জুলাই ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনাতেই আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অনিশ্চয়তা। হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজ শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সোনার দামে। সোমবার সকালে দেশের বাজারে ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী। ফলে গয়না কিনতে চাওয়া সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—সবার নজর এখন হলুদ ধাতুর বাজারে।
আজ ভারতে সোনার লেটেস্ট রেট কত?
১৩ জুলাই (সোমবার) সকাল পর্যন্ত বাজার সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—
- ২৪ ক্যারেট সোনা (৯৯.৯% বিশুদ্ধ)
প্রতি ১০ গ্রাম – ₹১,৪৪,৩৩০
প্রতি গ্রাম – ₹১৪,৪৩৩ - ২২ ক্যারেট সোনা (গয়না তৈরির সোনা)
প্রতি ১০ গ্রাম – ₹১,৩২,৩০০
প্রতি গ্রাম – ₹১৩,২৩০ - ১৮ ক্যারেট সোনা
প্রতি ১০ গ্রাম – ₹১,০৮,২৫০
প্রতি গ্রাম – ₹১০,৮২৫ - দ্রষ্টব্য: শহরভেদে GST, Making Charges এবং জুয়েলার্সের চার্জ অনুযায়ী দামে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পিছনে প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক অস্থিরতা।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে বেরিয়ে সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
সেন্ট্রাল ব্যাংকের চাহিদাও বাড়াচ্ছে দাম
শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নন, বিশ্বের একাধিক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
বিশ্বের বড় আর্থিক সংস্থাগুলিও মনে করছে, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী মাসগুলিতে সোনার দামে আরও বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
আরও বাড়বে সোনার দাম? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে এবং অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের একাধিক পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক মাসেও সোনার বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকবে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বড় দামের ওঠানামা অস্বাভাবিক নয়।
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কী করা উচিত?
যাঁরা বিয়ে, উৎসব বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য সোনা কিনতে চাইছেন, তাঁদের জন্য বর্তমান বাজারে দামের ওঠানামা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করাই ভালো।
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা ধাপে ধাপে বিনিয়োগের কৌশল নিতে পারেন। ফিজিক্যাল গোল্ডের পাশাপাশি Gold ETF কিংবা Digital Gold-এর মতো বিকল্পও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও বিনিয়োগে কিছুটা ভারসাম্য রাখা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন সোনার বাজারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে। তাই নতুন করে সোনা কেনা বা বিনিয়োগের আগে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধির উপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।



