১০ গ্রাম সোনা ২.৪০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে ২০৩১ সালে, এখনই সোনায় বিনিয়োগ করুন!! সোনার দাম ভারতের গৃহস্থালির জন্য অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। বিভিন্ন সময়ে সোনা ক্রয় বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা এনে দিয়েছে। সোনার প্রতি ভারতের মানুষের আকর্ষণ ঐতিহ্যগত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম বেড়ে যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা রেকর্ড ভেঙে চলেছে। ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইবিজেএ)-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ২১ অক্টোবর ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম সর্বোচ্চ ৮০,৩৩০ টাকায় পৌঁছেছে। যা সোনার বাজারে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।
সোনার দাম: গত ১০ বছরে কেমন ছিল?
গত এক দশকে সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২৪,৭৪০ টাকা। আর ২০০৬ সালে এটি ছিল মাত্র ৮,২৫০ টাকা। ১৯৮৭ সালের ৩১ মার্চ ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল মাত্র ২,৫৭০ টাকা। এই দীর্ঘ সময়ে সোনার মূল্য প্রায় ৩২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দামের এই ধারা বজায় থাকলে আগামী ছয় থেকে ন’বছরের মধ্যে সোনা দু’লাখ টাকায় পৌঁছতে পারে।

সোনার দাম বৃদ্ধির কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সোনা হল এক ধরণের নিরাপদ বিনিয়োগ, যা রাজনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক, এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। যেমন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের কারণে বিশ্বে সোনার দর বৃদ্ধি পায়। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতাও সোনার দামের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
এছাড়া, ভারতের মুদ্রার অবমূল্যায়ন, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মতো ঘটনাগুলোও সোনার দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, তখন সোনার চাহিদা ও মূল্যও বৃদ্ধি পায়। কারণ সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ বলে মনে করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সোনার উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, এবং ভারত কেন্দ্রীয়ভাবে সোনা ক্রয় করে চলেছে, যা সোনার দরে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ভারতের সাধারণ জনগণের মধ্যেও সোনা ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে। এক সময়ে সোনাকে শুধুমাত্র ভোগবাদী পণ্য মনে করা হলেও, বর্তমানে এটি একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসঃ ১০ গ্রাম সোনা ২.৪০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে ২০৩১ সালে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ধারায় সোনার দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী সাত থেকে বারো বছরের মধ্যে সোনার দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ, ১০ গ্রাম সোনা ২.৪০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হতে পারে। আবার কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি আরও দ্রুত ঘটতে পারে। আগামী ছয় বছরের মধ্যেই সোনা ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি পার করবে বলে তাঁদের অনুমান।
আইবিজেএ-র জাতীয় সম্পাদক সুরেন্দ্র মেহতা বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত সোনার দরে প্রভাব ফেলছে। যদি চিন-তাইওয়ান সংঘাত শুরু হয়, তাহলে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে।” এছাড়া, ২০২৩ সালে ‘ব্রিকস’ সম্মেলনেও সোনার দামের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখনই সোনায় বিনিয়োগ করুন। কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সোনায় বিনিয়োগ করা অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। বিনিয়োগের জন্য গয়না, গোল্ড বন্ড, বা অন্য কোন সোনা-সম্পর্কিত পণ্যে লগ্নি করা যেতে পারে। তবে গয়না কেনার সময় অবশ্যই হলমার্ক দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সোনার দাম কবে দু’লাখ টাকায় পৌঁছাবে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনার বর্তমান দাম যেখানে রয়েছে, তার তিনগুণ বৃদ্ধি হলে সোনার দাম ২.৪০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাবে। আগামী ছয় থেকে ন’বছরের মধ্যে এই দাম দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ক্রয় প্রক্রিয়া এই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।
সোনার দামে নতুন রেকর্ড
বর্তমানে সোনার দাম যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তাতে ভবিষ্যতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোনার বাজারের অবস্থা দেখে বিনিয়োগকারীরা এখন থেকেই নিজেদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঠিক করতে পারেন।



