শিক্ষকতার স্বপ্ন ছেড়ে সব্জিবিক্রি, টোটো চালাচ্ছেন হবু শিক্ষকরা!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রাজ্যে। অন্যদিকে, আর এই ভাইরাসের কারণে টানা দু-মাস লকডাউনের ফলে কার্যত পথে বসিয়েছে রাজ্যের কয়েক হাজার হবু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। এমন অবস্থা যে শিক্ষকতার স্বপ্ন ছেড়ে সব্জিবিক্রি, টোটো চালাচ্ছেন হবু শিক্ষকরা!

গতকাল সরকারের দেওয়া হিসাব অনুসারে, রাজ্যে ফের আক্রান্ত ৮৯৫ জন। করোনা ভাইরাস এখন প্রত্যেক মূহুর্তে বাড়াচ্ছে তার তীব্রতা। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া এবং হুগলী তে কার্যত বেলাগাম করোনা ভাইরাস। বাদ নেই উত্তরের জেলা গুলিও, কার্যত সংকট জনক পরিস্থিতি দার্জিলিং জেলায়। সংক্রমণ এবং মৃত্যুর নিরিখে দেশে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড।

আর এই ভাইরাসের কারণে টানা দু-মাস লকডাউনের ফলে কার্যত পথে বসিয়েছে রাজ্যের কয়েক হাজার হবু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে। কমিশনের অনিয়মের কারণেই প্রায় ৭ বছর আটকে আছে আপার প্রাইমারির নিয়োগ প্রক্রিয়া। রাজ্য জুড়ে উচ্চ প্রাথমিকের হবু শিক্ষক রা বিধায়ক মন্ত্রী আর সাংসদ দের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন নিয়োগের দাবি নিয়ে।

অন্যদিকে লকডাউনের আগে এতদিন প্রাইভেট টিউশনে সংসার চালাচ্ছিলেন এই শিক্ষিত বেকাররা। কিন্তু লকডাউনে প্রাইভেট টিউশন বন্ধ। কবে যে সব কিছু স্বাভাবিক হবে, অনিশ্চিত। আদালতে এই মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে তা কেউ জানে না। কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ কার্যত সুতোয় ঝুলছে। এদিকে ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে বয়েস! তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষকতার স্বপ্ন ছেড়ে শিক্ষকতার স্বপ্ন ছেড়ে সব্জিবিক্রি করছেন টোটো চালাচ্ছেন হবু শিক্ষকরা।

এমন সময়ে রাজ্যের টেট-উত্তীর্ণ উচ্চ-প্রাথমিকের সেই হবু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকে এখন বাঁচা-মরার বর্ডার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ চালাচ্ছেন মুদি দোকান, কেউ সাইকেল-ভ্যানে ডিম-সব্জি বেচছেন, কেউ চালাচ্ছেন টোটো।

আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে ত্রান চুরি তৃণমূলের; ড্যামেজ কন্ট্রোলে কঠোর শিশির-পার্থ।

ভূগোলের শিক্ষক পদপ্রার্থী দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারির পাথরঘাটার রঞ্জিতকুমার দে বলেন, ‘ বাবা মারা গিয়েছে আগেই, বাধ্য হয়েই দোকানের হাল ধরেছি। সব্জিও বেচছি। ১২ জনের সংসার চালাতে হয়। বয়সটাও পেরিয়ে যাচ্ছে।’

গণিতের শিক্ষক পদপ্রার্থী পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের কাদুয়া পশ্চিমবার গ্রামের গৌরাঙ্গ মাইতি জানান, এতদিন টিউশন করে সংসার চলত। কিন্তু লকডাউনে সেই ইনকাম এখন বন্ধ। তাই ডিম বিক্রি করছেন।

ইতিহাসের হবু শিক্ষিক আরামবাগের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আড়াই বছরের মেয়েকে নিয়ে পাঁচ জনের সংসার। কবে যে চাকরি হবে, আদৌ হবে কি না, জানি না। লকডাউন সব কিছুই ওলোটপালট করে দিল। তাই টোটো চালাচ্ছি।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন