10th ফেব্রুয়ারি, 2026 (মঙ্গলবার) - 7:20 অপরাহ্ন
26 C
Kolkata

ব্যক্তিগত স্বার্থে কূটনীতি? নিজের নোবেল পাওয়া নিয়ে মোদীর সমর্থন পাবেন না, সেই কারনেই ভারতের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেছেন ট্রাম্প!

নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে হতাশা থেকেই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব, পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছেন ট্রাম্প—বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত কয়েক মাসে যে স্পষ্ট টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা বাড়ছেই। এই পরিস্থিতির নেপথ্যে কৌশলগত নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণ কাজ করেছে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও অধ্যাপক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা। তাঁর দাবি, নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফুকুয়ামার বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দশক ধরে মার্কিন প্রশাসনের ধারাবাহিক কৌশল ছিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা। দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে এসেছে ওয়াশিংটন। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশল থেকে সরে এসে ট্রাম্প ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলেই তাঁর অভিযোগ।

একটি সাক্ষাৎকারে ফুকুয়ামা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমর্থন না করায় তিনি অসন্তুষ্ট হন। সেই হতাশার ফলেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাঁর মন্তব্য, “এটি দেখলেই বোঝা যায়, কীভাবে ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থকেও এক পাশে সরিয়ে রেখেছেন।”

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় আসার পর শুরুতে ভারতীয় মহলে আশাবাদ ছিল যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। ট্রাম্প ও মোদীর ব্যক্তিগত সমীকরণ সেই আশার ভিত্তি জুগিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে মে মাসে, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’কে কেন্দ্র করে।

এই অভিযানের সময় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নয়াদিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলে। ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন এবং সেই কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেন। ভারত সরকার বরাবর জানিয়ে এসেছে, পাকিস্তানের ডিজিএমও-র ফোনের মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব আসে।

এই মতপার্থক্যের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তাঁর সমর্থনের কথাও ঘোষণা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এখান থেকেই ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হতে থাকে।

ফুকুয়ামার মতে, এই গোটা পর্ব ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির চরিত্রই তুলে ধরে। তাঁর মন্তব্য, “যদি কেউ মনে করেন ট্রাম্পের আমলে আমেরিকার বৈশ্বিক নীতি সুসংহত ও ধারাবাহিক হবে, তবে তিনি ভুল করবেন।”

এই প্রেক্ষাপটে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading