নজরবন্দি ব্যুরোঃ ফুয়াদের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ; জনতার ডাক্তার তবুও লড়ছেন ICU-তে। ফুয়াদ হালিমের দুবার করোনা ভাইরাসের টেস্ট করা হয়েছে এবং দুবারই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তৃতীয় বারের জন্যে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ পাওয়া না গেলেও গুরুতর অসুস্থ চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। হাসপাতাল সূত্রে খবর ফুয়াদ হালিমের ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধেছে! আইসিইউ তে রেখে চিকিৎসা চলছে তাঁর। দক্ষিন কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ডাক্তার ফুয়াদ হালিম।
আরও পড়ুনঃ করোনা রুখতে ওষুধ নয়, নতুন যন্ত্র আসতে চলেছে খুব শীঘ্রই।


বুধবার ফুয়াদ হালিমের স্ত্রী সাইরা হালিম ট্যুইট করে এই খবর প্রকাশ্যে আনেন। করোনা কালে কোন কিছুর পরোয়া না করে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। প্রয়াত স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের পুত্র ফুয়াদ হালিম করোনার সংকটের মধ্যে তাঁর তৈরি ‘কলকাতা স্বাস্থ্য সংকল্প’-এ দুঃস্থ মানুষদের জন্য মাত্র ৫০ টাকায় ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করেছিলেন। বেশিরভাগ ডায়ালিসিস কেন্দ্র যখন বন্ধ ছিল, তখন মাত্র ৫০ টাকায় গত ২৬ শে মার্চ থেকে ৩০ শে জুন পর্যন্ত তাঁর হাসপাতালে ২,৩৫৭ জনের ডায়ালিসিস করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য লকডাউন পরবর্তী সময় একজন মানুষও ফেরেন নি তাঁর হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’ থেকে। লকডাউনের সময়ে হাজার হাজার গরীব, অর্থকষ্টে ভোগা রুগি দেখেছেন ফুয়াদ। ভারতের মধ্যে একমাত্র তাঁর হাসপাতালেই হয়েছে মাত্র পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে ডায়ালিসিস। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফুয়াদ হালিমের প্রথম দুটি করোনা টেস্তের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তৃতীয় রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন সবাই। অন্যদিকে ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া নিয়েও একটি টেস্ট হয়েছে, সেই টেস্টের রিপোর্ট ও আসেনি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। এখন বেলভিউ হাঁসপাতালের আইসিইউ তে অক্সিজেন সাপর্টে রয়েছে জনতার ডাক্তার ফুয়াদ হালিম।
ফুয়াদ হালিমের স্ত্রী সায়রা শাহ হালিম বুধবার একটি ট্যুইট করে লেখেন, ‘কোভিডের প্রথম সারির একজন যোদ্ধা হয়ে মহামারীর সময় অসংখ্য অভাবী, দরিদ্র এবং অসুস্থ মানুষের চিকিত্সা করেছে আমার স্বামী। বর্তমানে ফুয়াদ হালিম বেলভিউয়ের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।দুবার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও, চিকিত্সকরা সন্দেহ করছেন সার্স বা কোভিড নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত তিনি। মানসিক পরিস্থিতিতে সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা দয়া করে ওনার জন্য প্রার্থনা করুন।’









