অক্সিজেন শেষ তাই ছেড়ে দেওয়া হবে করোনা রোগীদের, মর্মান্তিক বার্তা ৪ হাসপাতালের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতকাল রাতে ২০ জন অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছেন। লড়ছেন এখনও ২১৫ জন। এই পরিস্থিতিতে আবার খারাপ খবর দিল্লীতে। সূত্রের খবর, দিল্লির মেট্রো হাসপাতালে এবার অক্সিজেনের অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৭০ জন রোগী রয়েছেন। তার মধ্যে ৫০ জনের অক্সিজেন প্রয়োজন। অক্সিজেন শেষ তাই নিতান্ত বাধ্য হয়েই এইসব রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ BJP’র হয়ে কাজ করছে কমিশন! ভোট মিটলেই সবার ‘চ্যাট’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন মমতা

দিল্লির ফর্টিস হাসপাতাল এবং ধরমবীর সোলাঙ্কি হাসপাতালেও শেষ হয়ে গেছে অক্সিজেন। পাশাপাশি গুরুগ্রামের ম্যাক্স হেলথকেয়ার হাসপাতালে যা অক্সিজেন মজুত রয়েছে ২ তা দিয়ে বড়জোর দুঘন্টা চালানো সম্ভব। নিরুপায় শতাধিক স্বাস্থ্য কর্মী, নার্স, চিকিৎসক। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে দেখছেন ধিরে ধিরে থেমে গেল ২০ জনের হৃদস্পন্দন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটল দিল্লীর জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে। এখনও লড়ছেন ২১৫ জন। তাঁর আগে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালেও অক্সিজেনের অভাবে ২৫ জন রোগীর মৃত্যু ঘটে।

জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালের কর্ণধার ডি কে বালুজা জানিয়েছেন, সরকারি তরফে আমাদের জন্য ৩.৫ মেট্রিক টন অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই অক্সিজেন গতকাল সন্ধ্যা ৫টার মধ্যে আসার কথা থাকলেও আসেনি। প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা দেরি করে মাঝরাতে এসে পৌঁছয় অক্সিজেন। ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছে ততক্ষনে, ২০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী প্রাণ হারান চোখের সামনে। ডি কে বালুজা আরও বলেছেন অক্সিজেনের অভাব হলে এমন অনেক মৃত্যু দাঁড়িয়ে দেখতে হবে। এই মুহুর্তে শুধু তাঁর জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালেই মৃত্যুর সাথে লড়ছেন ২১৫ জন অতি সংকটজনক করোনা আক্রান্ত। পরিস্থিতি চরম খারাপের দিকে এগোচ্ছে ক্রমশ।

দিল্লীতে কমপক্ষে ৭টি হাসপাতালের অবস্থা প্রায় এক। আজ সকালে তীব্র সংকটের কথা জানিয়ে ট্যুইট করেছে মুলচন্দ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তাঁরা জানিয়েছে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকা ১৩০ জন করোনা আক্রান্ত সময়ে অক্সিজেন না পেলে খারাপ খবর অবশ্যম্ভাবী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দ্বারস্থ হয়েছে। হাসপাতালের দাবি যা অক্সিজেন আছে তাতে আর ২ ঘণ্টা চালাতে পারবেন তাঁরা। একাধিক বার প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন