ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের এক যুগের অবসান। প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সিং বিন্দ্রা ওরফে আইএস বিন্দ্রার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেটমহল। রবিবার, ২৫ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বিন্দ্রা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
এই দুঃসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় ক্রিকেটে শোকের ছায়া নেমে আসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জয় শাহ বিন্দ্রার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোকপ্রকাশ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভারতীয় ক্রিকেটে বিন্দ্রার অবদান স্মরণ করেন।
এক্স হ্যান্ডেলে জয় শাহ লেখেন, “প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি ও ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ আইএস বিন্দ্রার প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর দেখানো পথ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
আইএস বিন্দ্রা ছিলেন শুধু একজন প্রশাসক নন, বরং পঞ্জাব ক্রিকেটের রূপকার। ১৯৭৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা দীর্ঘ সময় পঞ্জাব ক্রিকেট সংস্থা-র সভাপতি ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই পঞ্জাব ক্রিকেটে পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন আসে। মোহালি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল ঐতিহাসিক। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সেই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয় আইএস বিন্দ্রা স্টেডিয়াম।
জাতীয় স্তরে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত BCCI-র সভাপতির দায়িত্ব সামলান বিন্দ্রা। ঘরোয়া ক্রিকেটের বিস্তার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বিশ্বক্রিকেটে ভারতের প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
এছাড়াও ১৯৮৭ ও ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ভারতে আয়োজনের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। তৎকালীন বিসিসিআই কর্তা জগমোহন ডালমিয়া-র সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দুই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব সামলেছিলেন আইএস বিন্দ্রা।
দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবন, নিঃস্বার্থ অবদান এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে আইএস বিন্দ্রা ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়েরই পরিসমাপ্তি ঘটল।



