ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বদল ফিফার সিদ্ধান্ত? লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত, খেলতে পারবেন মার্কিন তারকা বলোগান

বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখার পরও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বলোগান। ফিফার সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ফিফা (FIFA)-র এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত ঘিরে তোলপাড় বিশ্ব ফুটবল। বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার অনুমতি পেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর ফরোয়ার্ড ফোলারিন বলোগান (Folarin Balogun)। শুধু চলতি বিশ্বকাপই নয়, তাঁর এক ম্যাচের নির্বাসন এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর প্রতিক্রিয়া এবং তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, শাস্তি স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে যে আইনি ধারা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আগে বিশ্বকাপে কার্যত দেখা যায়নি বলেই দাবি করছেন বহু ফুটবল বিশ্লেষক।

লাল কার্ডের পরও খেলবেন বলোগান

আলজেরিয়া (Algeria)-র বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ফোলারিন বলোগান। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম (Belgium)-এর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ থাকার কথা ছিল না।

কিন্তু ফিফা ঘোষণা করেছে, তাঁর সাসপেনশন আপাতত কার্যকর হবে না। ফলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন মার্কিন ফরোয়ার্ড।

কী বলেছে ফিফা?

ফিফার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোড (FIFA Disciplinary Code)-এর ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফোলারিন বলোগানের সাসপেনশন এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে শাস্তি বাতিল হয়নি, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

ফিফার সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “একটি অন্যায্য সিদ্ধান্ত সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ।”

এরপর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বলোগানের শাস্তির বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস (White House) থেকে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এমনকি ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino)-র কথাও হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে ফিফা বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে— এমন কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

ফিফা সভাপতির নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাঁর মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল।

এবার বলোগানের সাসপেনশন স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল।

বেলজিয়ামের নজর শুধু ম্যাচে

অন্যদিকে, এই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে বেলজিয়াম শিবির। দলের লেফট ব্যাক ম্যাক্সিম ডে কুইপার (Maxim De Cuyper) জানিয়েছেন, দর্শক কিংবা মাঠের বাইরের বিতর্ক নয়, তাঁদের লক্ষ্য শুধুই ম্যাচ জেতা।

শেষ বত্রিশে কঠিন লড়াইয়ের পর সেনেগাল (Senegal)-কে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছে বেলজিয়াম। এবার শক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

বিতর্কের মধ্যেই নজর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

ফোলারিন বলোগানের শাস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপে শৃঙ্খলাবিধি প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও ফিফা নিজেদের নিয়মের আওতাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে, তবুও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ এবং তার সত্যতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এখন সবার নজর বেলজিয়াম বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে— যেখানে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই বিতর্কও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন