নজরবন্দি ব্যুরো: এক বছর হতে যায় বাড়ির ছোট মেয়েটা আর নেই। হাসিমুখে বাড়িময় ঘুরে বেড়াত। বাবা-মা, দিদির চোখের মণি ছিল। কিন্তু মারণ রোগ ক্যানসারের কাছে হার মানতে হয়েছে। গত বছর নভেম্বরে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। তাঁর অকালমৃত্যুর পর এবছর প্রথম পুজো। ঐন্দ্রিলাকে ছাড়া কেমন কাটছে এই পুজো তাঁর পরিবারের।
আরও পড়ুন: সপ্তমী যেতেই অর্ধেক ফুচকা উধাও, বেহালার মণ্ডপেই চলছে দর্শনার্থীদের পেটপুজো!
বহরমপুরের মেয়ে ঐন্দ্রিলা শর্মা। বেশ কয়েকবছর কলকাতায় থাকতেন। তবে দুর্গাপুজোর সময়ে বাবা-মা বহরমপুরের বাড়িতে থাকলে ছবি তুলে ছোট মেয়েকে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু এবারে ঐন্দ্রিলা নেই। আর কোনও পুজোয় থাকবে না। পুরনো স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই দিন কাটছে প্রয়াত অভিনেত্রীর পরিবারের। জানা যায়, ‘পুজোর আগে থেকেই নানা রকম অনুষ্ঠান হত তাঁদের বাড়িতে। সকলের আনন্দের মাঝে নিজের অসুস্থতা কাউকেই বুঝতে দিতেন না ঐন্দ্রিলা।’ হাজার কষ্টের মধ্যেও নিজেকে ও কাছের মানুষদের খুশির কথা ভেবে চলত।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ঐন্দ্রিলার মা জানান, ‘সবাইকেই তো একদিন চলে যেতেই হবে। তবে ওর চলে যাওয়া মানতে পারিনি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানতে পারব না। গতবছর শরীর খারাপ নিয়েও অনলাইনে সকলের জন্য জামাকাপড় কিনেছে। দু’হাত ভরে করেছে সকলের জন্য।’ মেয়ের চলে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আর কিছুদিন অন্ততঃ বাঁচতে পারত ও। দশটা বছর বাঁচলেও মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম। ওর মনের কত স্বপ্ন, কত ইচ্ছে সেগুলোর কিছুটা হলেও তো পূরণ হত।”

উল্লেখ্য, ক্যানসার আক্রান্ত হয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। অসুস্থতার কারণে অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। গত বছর নভেম্বর মাসে আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ঐন্দ্রিলাকে। কোমায় চলে যান। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। সবরকম প্রচেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর মাত্র ২৪ বয়সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ঐন্দ্রিলা শর্মা।
আর কোনও পুজোয় মেয়ে থাকবে না, ঐন্দ্রিলাকে ছাড়া কেমন কাটছে তাঁর পরিবারের?




