নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুর্গাপুজোর পর হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। কলকাতার অবস্থা সব থেকে সংকটজনক। চিকিৎসকরা সব থেকে বেশি উদবিঘ্ন দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নেওয়া ব্যাক্তিদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখে। কলকাতায় গত কয়েকদিন যতজন নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই নিয়েছেন করোনার দ্বিতীয় ডোজ। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে স্কুল খোলার সম্ভাবনা শেষ, অনিশ্চিত শিক্ষক নিয়োগ! করোনা ৩.০ #Editorial
এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, “করোনার টিকার দুটি ডোজ নিলে করোনা আক্রান্ত হবে না, এটা কেউ বলে নি। তবে মহামারির আকার নেবে না। যে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল, তাকে রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। করোনাকে নিয়েই চলতে হবে। যে রকম পক্স বা অন্যান্য রোগকে সঙ্গী করে চলি, তেমনই চলতে হবে।” পুজোর পর করোনা ছড়াচ্ছে একথা মানতে নারাজ ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, শুধু পুজোর জন্যে নয়, করোনা ছড়াচ্ছে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার কারনেও।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসকের কথায়, “পুজোর জন্য যে শুধুমাত্র করোনা বাড়ছে, তা নয়। আমার অনেক বন্ধু রয়েছে যাদের ঘুরতে গিয়ে করোনা হয়েছে। যদি একটু মানুষ ভিড় এড়িয়ে চলেন, যদি দায়িত্ব নিয়ে এবং সচেতনভাবে মাস্ক পড়েন তাহলে এই করণা বাড়বাড়ন্ত রোখা সম্ভব। যে কারণে আমরা বারবার সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আমি জানি, মানুষ নিশ্চিতভাবে সচেতন হবেন।”
করোনার টিকা নিয়ে মানুষের অনীহা প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমার কিছু হবে না, এই ধ্যান ধারণা নিয়ে অনেকে এখনও জীবন অতিবাহিত করছেন। দ্বিতীয় ডোজ় না নেওয়াকে অনেকেই বীরত্ব মনে করছেন। এটা ঠিক করছেন না। তাঁদের বলছি, করোনার দ্বিতীয় ডোজ যত দ্রুত সম্ভব তাড়াতাড়ি নিয়ে নিন।”
শুধু পুজোর জন্যে নয়, করোনা ছড়াচ্ছে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার কারনেও

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় কলকাতাতে ৪৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। 88৯ জন আক্রান্তের মধ্যে কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দা ৩১৮ জন। ১৩১ জন কলকাতা পুরসভা এলাকার বাইরের। কলকাতার ৩১৮ জন আক্রান্তের মধ্যে উপসর্গ রয়েছে ৬১ জনের, উপসর্গ বিহীন ২৫৭ জন। এদের মধ্যে টিকার প্রথম ডোজ় নেওয়া হয়ে গিয়েছে ২২ জনের। আর টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে ১৯৪ জনের। ভ্যাাকসিন নেওয়া হয়নি এমন আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫। হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে ৩৫ জনকে।



