ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে কমিশনের সময়সীমার মধ্যেই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল নবান্ন। বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। মঙ্গলবারই ছিল কমিশনের বেঁধে দেওয়া শেষ দিন। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় আপাতত প্রশাসনিক চাপ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার আগেই বিতর্কে জড়ান দুই জেলার চার আধিকারিক। অভিযোগ ওঠে, তাঁরা বেআইনি ভাবে ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একই অভিযোগে নাম জড়ায় ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীরও। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের সাসপেন্ড করা ও এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন।


সূত্রের খবর, গত বছর ৫ অগস্ট প্রথম চিঠি পাঠায় কমিশন। এরপর ৮ অগস্ট ফের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তা কার্যকর না-হওয়ায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবু পদক্ষেপ না-হওয়ায় সিইও দফতর থেকে দু’দফা ‘রিমাইন্ডার’ পাঠানো হয় জেলা প্রশাসনকে।
এরই মধ্যে নবান্ন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নেয়। সিইও দফতরে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, অভিযুক্তদের অপরাধ এফআইআর করার মতো গুরুতর নয় এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে এত বড় শাস্তি দেওয়া সমীচীন নয়। কিন্তু কমিশন এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। গত শুক্রবার দিল্লির নির্বাচন সদনে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়। পরে কমিশন মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। সেই ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই অবশেষে পদক্ষেপ করল নবান্ন।
অভিযুক্ত চার আধিকারিক হলেন তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্তচৌধুরী, বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। দেবোত্তম ও তথাগত বারুইপুর পূর্বের ইআরও ও এইআরও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। বিপ্লব ও সুদীপ্ত ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে একই দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর, তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়ক জেলা অফিসার এবং সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট ও অডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত। ডেটা এন্ট্রি কর্মী সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কমিশন সূত্রে খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ ফুল বেঞ্চ বর্তমানে অসমে রয়েছে। তাঁরা দিল্লি ফিরে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। প্রশাসনিক স্তরে এই পদক্ষেপের পর রাজ্য-কমিশন সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।









