ভোটার তালিকায় বেআইনি ভাবে ‘ভূতুড়ে’ নাম তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয়নি—এই অভিযোগেই রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করতে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় এবার সরাসরি সময় বেঁধে চাপ বাড়াল দিল্লি।
ঘটনাচক্রে, শুক্রবারই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লির নির্বাচন সদনে তলব করেছিল কমিশন। সূত্রের খবর, কেন এখনও পর্যন্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি, তা নিয়েই মুখ্যসচিবের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়। তার পরের দিনই নবান্নকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হল।


অভিযোগ কার বিরুদ্ধে?
গত বছরই পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। অভিযোগ, তাঁরা বেআইনি ভাবে ‘ভুয়ো’ বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
-
তথাগত মণ্ডল
-
দেবোত্তম দত্তচৌধুরী
-
বিপ্লব সরকার
-
সুদীপ্ত দাস
এঁদের নিলম্বিত করে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার কথা বলা হয়।
প্রথমে গত বছর ৫ অগস্ট রাজ্যকে চিঠি পাঠায় কমিশন। ৮ অগস্ট ফের স্মারক পাঠানো হয়। নবান্ন জানায়, সুদীপ্ত দাস এবং সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তবে বাকি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন। কিন্তু সেই নির্দেশও কার্যকর হয়নি। সিইও দফতর থেকে দু’বার স্মারক পাঠানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নেয় নবান্ন। কমিশনকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এফআইআর করার মতো গুরুতর নয়। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি উপযুক্ত নয় বলেও মত দেওয়া হয়।
তবে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট—ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও আপস নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
এখন নজর মঙ্গলবারের দিকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এফআইআর রুজু হয় কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে কৌতূহল চরমে।









