কৃষকদের সাথে বিমাতৃসুলভ আচরন করছে কেন্দ্র, অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী সোমার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দীর্ঘ সময় ধরে কৃষি আইন বিলের প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লিতে রাজপথে অবস্থানে বসেছেন কৃষকরা। প্রচন্ড ঠান্ডায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক কৃষক। একাধিক বৈঠক হওয়ার পরও কোন সমাধান আসেনি। কৃষি আইন বিলের প্রত্যাহারের পরিবর্তে কেন্দ্র আনতে চেয়েছিল স্থগিতাদেশ,যাতে পরে আবার ফিরে আসত এই একই বিল। তাই বাতিল কথা ছিল দ্রুত সমাধানের, নইলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে বলে জানিয়েছিলেন আন্দোলনরত কৃষকরা।

সেই মত ২৬ শে জানুয়ারি ট্রাক্টর নিয়ে দিল্লির রাজপথে মিছিল করেন হাজার হাজার কৃষক। সেখানেই আন্দোলন তীব্রতর রুপ নেয়। আর তাঁর পর থেকেই শুরু হয়ে যায় আরও একাধিক বিতর্ক। ২৬ শে জানুয়ারিতে কৃষকদের সমর্থনে দিল্লিতে গিয়েছিলেন তৃনমূল নেত্রী সোমা মুখার্জী। দিল্লিতে কৃষক ব্রিগেডে কৃষকদের মিছিলেও অংশগ্রহন করেন তিনি।

Shamim Ahamed Ads

কলকাতায় ফিরেও বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। দীর্ঘ আন্দলনের পর ২৬ তারিখে হঠাৎ কংগ্রেসের সাংসদ শশী থারুর ও সাংবাদিক রাজদীপ সারদেশাই, মৃণাল পান্ডে সহ ছয় বিশিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাক্টর মিছিলসংক্রান্ত ভুল খবর দিয়ে তাঁরা বিভ্রান্তি ও অশান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।

উত্তর প্রদেশের নয়ডা ও মধ্যপ্রদেশের চারটি শহরে তাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে রাজ্য সরকার কৃষকদের গাজিপুর সীমান্ত খালি করে দিতে বলেছিল। আজ শুক্রবার জাতীয় পতাকা হাতে বেশ কিছু যুবক ওই স্থান অবরোধকারী কৃষকদের ওপর আক্রমণ চালান। তাঁরা তাঁবুতে ভাঙচুর চালান। ঢিল ছোড়েন। কৃষকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে পুলিশের একাংশও জড়িয়ে পড়ে। মারপিটের সময় তলোয়ার কৃষকদের অভিযোগ, অবরোধস্থলে খাদ্য দ্রব্য, জল এসবের গাড়ি আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অথচ সেখানে বহিরাগতরা ঢুকে পড়ল কীভাবে। পুলিশি যোগাযোগ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। শুধু গাজিপুর নয়, টিকরি ও সিংঘু সীমান্তেও রাজ্য সরকারের মদদে কৃষক আন্দোলন ভাঙার অভিযোগ উঠছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের বদনাম ঘুচিয়ে কৃষকেরাও নতুনভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছেন। সমর্থনও মিলছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ যেভাবে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজাচ্ছে, দাঙ্গার অভিযোগ এনে গ্রেপ্তারের তোড়জোড় চালাচ্ছে, তাতে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যদিও কৃষকদের সমর্থনে প্রবীণ গান্ধীবাদী আন্না হাজারে আগামীকাল শনিবার থেকে মহারাষ্ট্র রাজ্যে নিজের গ্রামে আমরণ অনশনে বসার কথা জানিয়েছেন। কৃষক আন্দোলনকে ঘিরে বিরোধীদলীয় সমর্থন এখনো অটুট। যদিও সরকার কঠোরতা বাড়াচ্ছে। আইন বাতিলের রাস্তায় হাঁটতে সরকার যে একেবারেই রাজি নয়, তা আজ সংসদের যৌথ বাজেট অধিবেশনের ভাষণে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণে স্পষ্ট। রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন এই আইনে ১০ কোটি কৃষক উপকৃত হবেন। রাষ্ট্রপতি সরকারের তৈরি ভাষণই পাঠ করেন। সেই ভাষণে লালকেল্লায় হাঙ্গামার তীব্র নিন্দা করা হয়। বিরোধীরা এই ভাষণ বর্জন করে কৃষি আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত