নজরবন্দি ব্যুরোঃ কিছুদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান পেসার লুঙ্গি এনগিডি বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ এনেছিলেন ক্রিকেট কর্তাদের বিরুদ্ধে। এবার দলের মধ্যে সাদা-কালোর বিভেদ নিয়ে সরব হলেন প্রাক্তন প্রোটিয়া ফাস্ট বোলার মাখায়া এনতিনি। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এনটিনি জানিয়েছেন, “ক্রিকেট জীবনে একাকীত্ব ছিল আমার সবসময়ের সঙ্গী। আমাকে দলের কেউ ডিনারের জন্য ডাকত না। এমনকী সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে গেলেও সতীর্থরা আমার পাশে বসত না।
আরও পড়ুনঃ সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যে বললে পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দেবো, বিস্ফোরক কঙ্গনা।


সতীর্থরা আমার সামনেই অনেক পরিকল্পনা করত। কিন্তু তাতে আমাকে রাখত না। আমরা একই জার্সি পরতাম। একই জাতীয় সঙ্গীত গাইতাম। তবু আমাকে এসব সহ্য করতে হয়েছে। আমি টিম বাসের ড্রাইভারের কাছে নিজের ব্যাগ দিয়ে দিয়ে দিতাম। তার পর দৌড়ে মাঠে যেতাম। মাঠ থেকে ফেরার সময়ও একই কাজ করতাম। কেউ জানত না আমি এমনটা কেন করতাম! কাউকে কখনও বুঝতে দিইনি। এই নিয়ে কাউকে কিছু বলিনি।” তিনি আরও বলেন এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রায়ই টিমবাসে করে যেতেন না।
”বাসের ড্রাইভারের সঙ্গে দেখা করে ওর হাতে আমার ব্যাগটা দিয়ে দিতাম। তার পর দৌড়ে দৌড়ে মাঠে যেতাম। ফেরার সময়েও একই কাজ করতাম। বাসে না উঠে দৌড়ে দৌড়ে ফিরে আসতাম,” ফাঁস করেছেন এনতিনি। তাঁর আরও ব্যাখ্যা, ”তখন অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেনি, কেন আমি এটা করছি। আমিও এত দিন কাউকে এ সব কথা বলিনি। কিন্তু এ ছাড়া অস্বস্তিকে এড়িয়ে চলার আর কোনও রাস্তা ছিল না।” আবেগরুদ্ধ ভাবে এর পর আরও সাংঘাতিক কথা বলছেন, ”আমি একাকীত্ব থেকে পালাতে চাইতাম।
কী করব? যদি আমি বাসের পিছনের সিটে গিয়ে বসতাম, ওরা সামনের দিকে চলে যেত। যখন দল জিতত, সব কিছু ঠিকঠাক চলত। দল হারলেই প্রথম কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গত আমাকে। সবার আগে আমাকে দায়ী করা হত হারের জন্য।আমরা একই জার্সি পরতাম। একই জাতীয় সঙ্গীত গাইতাম। তবু আমাকে এসব সহ্য করতে হয়েছে।“










