কঙ্গনা রানাওয়াত এবং বিতর্ক যেন সমার্থক। বলিউডের ‘কুইন’ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী বারবার বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বেঙ্গালুরুর ৩৪ বছরের আইটি কর্মী অতুল সুভাষের আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে কঙ্গনার মন্তব্য ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর মঞ্জুনাথ লে আউট কমপ্লেক্সে আত্মহত্যা করেন আইটি কর্মী অতুল সুভাষ। তাঁর ঝুলন্ত দেহের পাশে পাওয়া যায় ২৪ পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, স্ত্রীর এবং তাঁর পরিবারের অত্যাচারের শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এমনকি, স্ত্রীর করা বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ৪০ বার জৌনপুরে হাজিরা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কঙ্গনা রানাওয়াত সংসদে বলেন, “বিবাহ-সম্পর্কিত ৯৯ শতাংশ মামলায় পুরুষদেরই দোষ থাকে। পুরুষদের দোষের কারণেই বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয়গুলো ঘটে।” যদিও তিনি এও স্বীকার করেন যে, যেসব মহিলাদের প্রকৃত অন্যায় করা হয়, তাঁদের ঘটনাগুলিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
কঙ্গনার দাবি, “ভুয়ো নারীবাদ এখন একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির মাধ্যমে নারীবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি সত্যিই নিন্দনীয়।”
কঙ্গনার এই মন্তব্যে অনেকে তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এলেও, অনেকেই তীব্র সমালোচনা করছেন। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, এমন মন্তব্য আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে হালকা করে দেখা। পুলিশ ইতিমধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অতুলের স্ত্রী নিকিতা সিংহানিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এমনকি, অতুলের সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিবাহবিচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা অবশ্যই এক জটিল সামাজিক সমস্যা। কঙ্গনা রানাওয়াতের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তবে এই ধরনের বক্তব্য কি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে? সমাজে এই ধরনের ইস্যুতে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন।



