নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নড়েচড়ে বসেছে ইডি। সোমবার ভোররাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা পৌঁছে যান মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে। তল্লাশি চলে দীর্ঘ সময় ধরে। নিয়োগ মামলায় একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসা এই বিধায়ককে ঘিরে ফের শোরগোল রাজ্যে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এসএসসি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একযোগে পাঁচটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে ইডি। এর মধ্যে রয়েছে জীবনকৃষ্ণ সাহার বড়ঞার বাড়ি, সাঁইথিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহার বাসভবন, রঘুনাথগঞ্জে বিধায়কের শ্বশুরবাড়ি এবং স্থানীয় এক ব্যাঙ্ক কর্মীর বাড়ি। একই সময়ে আরেকটি দল পৌঁছে যায় পুরুলিয়ায় দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রসন্ন রায়ের শ্বশুরবাড়িতে।


জীবনকৃষ্ণ সাহা অতীতে এই মামলায় গ্রেফতার হলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান। ২০২৩ সালে সিবিআই যখন তাঁর কান্দির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল, তখনই আলোচনায় উঠে আসে এক নাটকীয় ঘটনা। সিবিআই হানার সময় নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বাড়ির পিছনের পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। যদিও সে কাণ্ডে তিনি রেহাই পাননি। এবারও ইডির আসার খবর পেয়ে তিনি বাড়ির পিছনের দিকে চলে যান বলে জানা গেছে। তবে তদন্তকারীরা দ্রুত তাঁকে ফিরিয়ে আনেন।
তল্লাশির আওতায় আসা সাঁইথিয়ার কাউন্সিলর মায়া সাহা জীবনকৃষ্ণের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া। অনুমান করা হচ্ছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তিনিও জড়িত থাকতে পারেন। এর ফলে বিধায়কের সঙ্গে একাধিক আত্মীয় ও সহযোগীর দিকেও নজর দিয়েছে ইডি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে নতুন সংযোগ ও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ। নিউটাউনের তথাকথিত ‘মিডলম্যান’ প্রসন্ন রায়ের পর এবার বড়ঞার এই বিধায়ক ফের আলোচনায়। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, দলের ভিতরে এত বড় দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কী অবস্থান নেবে।


ইডি সূত্রে খবর, বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সংগৃহীত নথি এবং আগের জবানবন্দির সঙ্গেও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ইডি হানা ঘিরে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে, নিয়োগ দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। অন্যদিকে, শাসক দল বলছে, তদন্তকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে কেন্দ্র। তবে ইডির বারবার তল্লাশি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জীবনকৃষ্ণ সাহার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত যত এগোবে, সামনে আসবে আরও নাম ও সংযোগ—এমনটাই আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলের।







