নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সোমবার সকালে ইডি পৌঁছয় মুর্শিদাবাদের আন্দির গ্রামে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে। কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের দেখে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় নিজের একটি মোবাইল ফোন বাড়ির পিছনের ঝোপে থাকা নর্দমায় ছুড়ে দেন জীবনকৃষ্ণ। পরে ইডি আধিকারিকেরা মোবাইলটি উদ্ধার করেন।
সূত্রের খবর, ইডির অন্তত পাঁচজন আধিকারিক বর্তমানে জীবনকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তাঁকে আটকানোর জন্য তিনজন জওয়ান ধাওয়া করে পিছনের দরজা থেকে টেনে নিয়ে আসেন বাড়ির ভিতরে। প্রথমে সংস্থার আধিকারিকরা বুঝতেই পারেননি যে মোবাইল ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তল্লাশির কিছুক্ষণ পর নর্দমার ভেতর থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এখন সেই মোবাইলের অবস্থান এবং তাতে থাকা তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


একই দিনে কলকাতা এবং জেলার একাধিক জায়গায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছে। বীরভূমের সাঁইথিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলর ও জীবনকৃষ্ণের পিসি মায়া সাহার বাড়িতেও অভিযান হয়েছে। পাশাপাশি, রঘুনাথগঞ্জে জীবনকৃষ্ণের শ্বশুরবাড়ি এবং মহিষ গ্রামের ব্যাঙ্ক কর্মী রাজেশ ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চলে।
উল্লেখযোগ্য, জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে এর আগে একই অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সেই সময়ও অভিযোগ ছিল, প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর সেই ফোনগুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রায় ১৩ মাস জেলে থাকার পর তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, একই কৌশল বারবার কেন ব্যবহার করছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা? তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, এই ফোনগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। আর সেই কারণেই বিধায়ক প্রমাণ নষ্ট করতে চাইছেন।


নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তল্লাশি ইতিমধ্যেই রাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, শাসক দলের একাধিক নেতা সরাসরি জড়িত। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগ, কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তবে ইডি একের পর এক মোবাইল উদ্ধার করায় নতুন করে চাপ বেড়েছে জীবনকৃষ্ণ সাহার উপর।
একাধিকবার গ্রেফতার, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং তদন্তে বারবার নাম উঠে আসায় জীবনকৃষ্ণ সাহা এখন আতসকাচে। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জট আরও খোলার চাবিকাঠি হতে পারে।







