9th জানুয়ারি, 2026 (শুক্রবার) - 3:12 অপরাহ্ন
24 C
Kolkata

কেন আইপ্যাক অফিসে হানা? স্পষ্ট করে জানাল ED

আইপ্যাকের অফিসে ইডি তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়া ও ফাইল সরানো ঘিরে তীব্র সংঘাত। কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে কীভাবে জড়াল প্রতীক জৈনের নাম?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের মুখে বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন দৃশ্য। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও গোদরেজ ওয়াটারসাইডে সংস্থার অফিসে ইডি তল্লাশি চালানোর মাঝেই সেখানে ঢুকে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। ফাইল ও নথি হাতে বেরিয়ে আসা, গাড়িতে গুচ্ছ গুচ্ছ কাগজ তোলা—এই দৃশ্য গোটা দেশের নজর কেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তাঁর দলের আইটি অফিস থেকে হার্ড ডিস্ক ও প্রার্থী তালিকা ‘ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা’ হয়েছে। পাল্টা ইডির দাবি, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত চলাকালীন নথি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে Enforcement Directorate একযোগে তল্লাশি শুরু করে আইপ্যাক কর্ণধার Pratik Jain-এর ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের গোদরেজ ওয়াটারসাইডে অবস্থিত IPAC-এর অফিসে। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আইটি সেল থেকে প্রার্থী তালিকা ও রাজনৈতিক কৌশলের নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

ইডির বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এটি একটি বেআইনি কয়লা পাচার ও আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত তদন্ত। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ইডির অভিযোগ, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি ক্ষমতার জোরে তদন্ত চলাকালীন অফিসে ঢুকে নথি ও ডিজিটাল তথ্য সরিয়ে নিয়েছেন। এই অভিযোগ তুলে ইডি ইতিমধ্যেই Calcutta High Court-এর দ্বারস্থ হয়েছে।

কয়লা কেলেঙ্কারিতে আইপ্যাকের নাম এল কীভাবে?

ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় বৃহস্পতিবার দেশের মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়—বাংলায় ৬টি ও দিল্লিতে ৪টি। তদন্তে উঠে এসেছে অনুপ মাজির কয়লা পাচার চক্রের কথা। অভিযোগ, চুরি হওয়া কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার একাধিক সংস্থার কাছে বিক্রি হয়েছিল। এর বড় অংশ গিয়েছে ‘শাকম্ভরী গ্রুপ অফ কোম্পানিজ’-এ।

এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই সামনে আসে হাওয়ালা নেটওয়ার্কের তথ্য। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড (IPAC)-এর মধ্যস্থতায় প্রায় ১০ কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন হয়েছে। একাধিক অভিযুক্তের বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রের দাবি। প্রতীক জৈনের মারফত বা তাঁর মধ্যস্থতায় এই আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি।

রাজনৈতিক পাল্টা চাপানউতোর

মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বলছেন, ইডির উদ্দেশ্য প্রার্থী তালিকা ও রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি উদ্ধার করা, সেখানে বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari প্রশ্ন তুলেছেন—আইপ্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা, সেখানে প্রার্থী তালিকা থাকার কথাই বা কীভাবে আসে? তাঁর মতে, কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চালানো কেন্দ্রীয় সংস্থার অধিকার।

অন্যদিকে ইডি সাফ জানিয়েছে, এই তদন্তের সঙ্গে ভোট বা কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। কয়লা দুর্নীতি মামলার সূত্রেই তল্লাশি চলছে এবং নথি ‘জোর করে সরিয়ে নেওয়া’র অভিযোগে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আইপ্যাক–ইডি–নবান্ন সংঘাত এখন আর শুধু একটি তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রূপ নিচ্ছে বড় সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংঘাতে—যার পরবর্তী অধ্যায় কী হবে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading