দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে আরজি কর আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার বিশেষ আদালতে হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার পর এই চার্জশিটকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলেই মনে করছেন আইনজীবী মহল।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি অভিযুক্ত বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরার বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন টেন্ডার ও সরবরাহ সংক্রান্ত কাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বিপ্লব ও সুমন ভেন্ডর হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পরই হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইডির তদন্তের দাবি করেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডিও তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত চলাকালীন নিউটাউনে সন্দীপ ঘোষের পৈতৃক বাড়ি, টালায় এক সহযোগীর বাড়ি এবং কালিন্দীর একটি ওষুধের দোকান-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। এরপর একে একে গ্রেপ্তার হন সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরা। পরে এই মামলায় সন্দীপের নিরাপত্তারক্ষী আফসার আলিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত এগোয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই মামলায় চার্জশিট না দেওয়া নিয়ে হাই কোর্টে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইডি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তখন মন্তব্য করেছিলেন, “ইডি চার্জশিট দেয় না, বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করে না।” সেই প্রেক্ষিতেই দীর্ঘ তদন্তের পর শুক্রবার প্রথম চার্জশিট পেশ করা হল।


এদিকে একই দিনে এই মামলার ‘হুইসল ব্লোয়ার’ আখতার আলির বিরুদ্ধে সিবিআই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করে কি না, সেই দিকেও নজর রয়েছে।









