রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে পার্কিং নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি পার্কিং ও সরকারি জমি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ সামনে আসছে। দুর্গাপুরের বিধাননগরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এমনই অভিযোগ ঘিরে এবার সরব পুলিশ। সরকারি জমিতে ‘সিন্ডিকেট’ করে পার্কিং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কড়া ভাষায় তাঁদের হুঁশিয়ারি, ‘সিন্ডিকেট করলে চামড়া তুলে নেব।’
দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি ওই জায়গার উপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে পার্কিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। সাধারণ মানুষ সেখানে গাড়ি রাখতে গেলেই বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ শুধু গাড়ি রাখতে বাধা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পার্কিং নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দুর্ব্যবহার ও বচসার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অথচ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই রাস্তার ধারে বা হাসপাতালের আশপাশে গাড়ি রাখতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি জমি ব্যবহার করে কেউ কীভাবে সাধারণ মানুষের পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি জায়গার উপর নিজেদের প্রভাব তৈরি করে কার্যত ঠিক করে দিচ্ছেন কে সেখানে গাড়ি রাখতে পারবেন আর কে পারবেন না।
সোমবার এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, এক মহিলা তাঁর স্বামীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। রাস্তার ধারের ফাঁকা জায়গায় গাড়ি রাখার চেষ্টা করলে কয়েকজন তাঁকে বাধা দেন বলে অভিযোগ। এরপরই ওই পক্ষের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি জায়গায় গাড়ি পার্কিং করা যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনও ব্যক্তি বা স্থানীয় গোষ্ঠীকে কে দিয়েছে? বিশেষ করে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রোগী নিয়ে আসা মানুষকে যদি গাড়ি রাখার জন্য বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ একদিনের নয়। সরকারি জায়গাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই কয়েকজনের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র বেআইনি পার্কিংয়ের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে সরকারি জমি দখল, স্থানীয় প্রভাব এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগও জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি তাঁদের একাংশের।
এই পরিস্থিতিতেই পুলিশের তরফে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। হাসপাতাল সংলগ্ন সরকারি জায়গায় বেআইনি ভাবে দখলদারি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো কিংবা কোনও গোষ্ঠী তৈরি করে পার্কিং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) কড়া বার্তা দিয়েছেন। তার পরেও দুর্গাপুরের মতো এলাকায় একই অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের এই কড়া হুঁশিয়ারির পর সরকারি জমি ঘিরে বেআইনি পার্কিং ও তথাকথিত সিন্ডিকেটের দাপট কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।



