দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ধর্ষণ মামলা ঘিরে ফের উত্তাল আদালত চত্বর। বুধবার নির্যাতিতার সহপাঠী অভিযুক্ত ছাত্রকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করতে রাজি হলেন না কোনও আইনজীবীই।
দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবব্রত সাঁই জানান, সংগঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এই নৃশংস অপরাধের ঘটনায় ধৃতদের হয়ে আদালতে কেউ লড়বেন না। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই পদক্ষেপ।


এই ঘটনা শুধু দুর্গাপুর নয়, সমগ্র রাজ্যে আলোড়ন তুলেছে।
১০ অক্টোবর রাতে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সূত্র অনুযায়ী, কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত আটটা নাগাদ তরুণীকে কলেজের গেট দিয়ে বের হতে এবং কিছুক্ষণ পর এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঢুকতে।
এর পর থেকেই শুরু হয় তদন্ত। প্রথমে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর সেই তালিকায় নাম আসে নির্যাতিতার সহপাঠীরও। মঙ্গলবার ওই ছাত্রকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (crime reconstruction) করানো হয়।
ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ ওই ছাত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।


ওডিশার জলেশ্বর থেকে দুর্গাপুরে এমবিবিএস পড়তে এসেছিলেন ২৩ বছরের ওই তরুণী। ঘটনার পর ১১ অক্টোবর নির্যাতিতার বাবা নিউ টাউনশিপ থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী মঙ্গলবার বলেন, নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী মূল অভিযুক্ত একজন। বাকিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, আদালতে অভিযুক্তকে পেশ করা মাত্রই আইনজীবীরা একজোটে সিদ্ধান্ত জানান—এই অপরাধের পক্ষে তাঁরা দাঁড়াবেন না।
দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই অবস্থান থেকে সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না।
এই ঘটনার পর আইনি মহল থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বহু আইনজীবী জানিয়েছেন, “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের পাশে দাঁড়ানো যায় না।”
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে একাধিক প্রমাণ হাতে এসেছে। নির্যাতিতার চিকিৎসা রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে।
তদন্তের স্বার্থে আপাতত অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় দুর্গাপুর ও আসানসোল এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলি কলেজে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার দাবি উঠেছে।
দুর্গাপুর মেডিক্যাল ছাত্রী ধর্ষণ মামলা এখন শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের সামনে নৈতিকতার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে—ন্যায়বিচারের মুখোমুখি কেমনভাবে দাঁড়ায় আমরা সবাই।








