ঢাকের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। মহালয়া ও প্রতিপদের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। কোথাও প্যান্ডেলের উদ্বোধন, কোথাও শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, আবার কোথাও কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু উৎসবের এই আবহে বৃষ্টি কি সমস্যা বাড়াবে? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকলেও পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পুজোর আবহাওয়ায় আপাতত বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। রাতে ও ভোরে হালকা শিরশিরে অনুভূতি থাকলেও দিনের বেলায় রোদ ও গরমের প্রভাব থাকবে। বিকেলের দিকে কোথাও কোথাও মেঘ জমতে পারে। বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও শুরুতেই টানা ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলে দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়া কেমন থাকবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া?
সোমবার দ্বিতীয়ায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় আবহাওয়া শুকনো থাকার সম্ভাবনা। কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই।
শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় দিনের বেলায় অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
পুজোর কেনাকাটা, প্যান্ডেল ঘোরা কিংবা প্রতিমা দর্শনের পরিকল্পনা থাকলে সপ্তাহের শুরুর দিনগুলিতে আবহাওয়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে স্থানীয়ভাবে মেঘ বা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। নিম্নচাপটির সম্ভাব্য অভিমুখ তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের দিকে। এই ব্যবস্থার প্রভাবে বাংলার আবহাওয়াতেও সপ্তাহের মাঝামাঝি কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
বুধবার চতুর্থী থেকে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে আপাতত আবহাওয়া শুকনো থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
পুজোর আবহাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে বৃহস্পতিবার পঞ্চমী ও শুক্রবার ষষ্ঠীর দিকে। এই দু’দিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে পুজোর কেনাকাটা, প্যান্ডেল পরিদর্শন কিংবা বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আকাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার সময় বৃষ্টি হলে উৎসবের পরিকল্পনায় সাময়িক পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে সব জেলায় একই মাত্রায় বৃষ্টি হবে, এমন কোনও তথ্য দেওয়া পূর্বাভাসে নেই।
সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত কি স্বস্তি মিলবে?
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সপ্তমী থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনাও কম বলে জানানো হয়েছে।
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই পুজোর দিনগুলিতে বাইরে বেরোনোর আগে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন দেখে নেওয়াই ভালো।
দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে পুজোর শুরুতে আবহাওয়া বেশি শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের কোথাও বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার ষষ্ঠী এবং শনিবার সপ্তমীর প্রথম দিনে উত্তরবঙ্গের কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এক-দু’পশলা বৃষ্টি হতে পারে। তবে রবিবার থেকে বুধবার দশমী পর্যন্ত আবহাওয়া আবার শুকনো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পুজোর শুরুতে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ—দুই অঞ্চলেই তুলনামূলক স্বস্তির ইঙ্গিত থাকলেও পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে শেষ মুহূর্তের আবহাওয়ার আপডেট দেখে পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে ভালো।



