দমদম বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণের পথে বড় পদক্ষেপ, বাঁকড়া মসজিদে প্রবেশ বন্ধ; নমাজও স্থগিত

দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ায় নতুন মোড়। শনিবার থেকে বাঁকড়া (গৌরীপুর জামে) মসজিদে বিমানবন্দরের ভিতর দিয়ে প্রবেশের এন্ট্রি পাস বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে আপাতত মসজিদে নমাজও বন্ধ রাখা হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দমদম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। শনিবার থেকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তর দিয়ে বাঁকড়া বা গৌরীপুর জামে মসজিদে যাওয়ার এন্ট্রি পাস বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর জেরে আপাতত মসজিদে সাধারণ মানুষের প্রবেশ এবং নমাজ আদায়ও বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ প্রকল্পকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান এলাকার বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং মসজিদ-সংক্রান্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে বিধায়ক জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে অধিকাংশ মুসল্লিই প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানান।

প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত, দমদম বিমানবন্দরের সীমানার মধ্যেই অবস্থিত। বহু বছর ধরেই এই মসজিদের অবস্থান এবং বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছিল।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রধান রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের সময় দ্বিতীয় রানওয়ে ব্যবহার করতে গেলে বড় বিমানের ওঠানামায় নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। মসজিদের বর্তমান অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচল—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল। ফলে রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও দীর্ঘদিন আটকে ছিল।

এতদিন পর্যন্ত বিরাটির দিকের একটি নির্দিষ্ট প্রবেশদ্বার দিয়ে আধার কার্ড দেখিয়ে নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর বিমানবন্দরের ভেতর প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মুসল্লিরা মসজিদে পৌঁছতেন। শনিবার থেকে সেই প্রবেশ ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। পরবর্তীতে একটি বিশেষজ্ঞ দল মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করে এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের পর চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে এগোনো হবে।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বা বিমান চলাচলে কোনও সমস্যা তৈরি হোক, তারা তা চান না। একইসঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও কমিটির তরফে জানানো হয়েছে। তবে স্থানান্তর নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের বক্তব্য।

আরও পড়ুন