মুর্শিদাবাদ নদীভাঙন রোধে বড় উদ্যোগের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় গঙ্গা ও ভাগীরথীর ভাঙন ঠেকাতে ৩৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ রোধে নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
প্রতি বছর বর্ষার সময় মুর্শিদাবাদ ও মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়ে। বহু কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে। সেই প্রেক্ষিতেই নদীভাঙন রোধে বড় আর্থিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুই জেলার নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলিতে প্রতিরোধমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।
প্রশাসনিক বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর মধ্যে আরও সমন্বয় বাড়াতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে মোট ৬৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী অন্যান্য জেলার তুলনায় এই সংখ্যা কম হওয়ায় নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখতে হবে এবং অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে কোনও তথ্য দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার উপরও জোর দেন তিনি।
মুর্শিদাবাদ সফরে নদীভাঙন রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর থাকবে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং সীমান্তে নজরদারি আরও কতটা শক্তিশালী হয়।



