ইতিহাসে প্রথম, প্রসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বার হাউসে ইমপিচড হলেন ট্রাম্প।

ইতিহাসে প্রথম, প্রসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বার হাউসে ইমপিচড হলেন ট্রাম্প।

নজরবন্দি ব্যুরো: ইতিহাসে প্রথম, প্রসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বার হাউসে ইমপিচড হলেন ট্রাম্প। নজীর গড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বারের জন্য ইমপিচড হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসের মধ্যে ট্রাম্পই প্রথম যিনি দুবার ইমপিচড হলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার সাতদিন আগেই আমেরিকান কংগ্রেসে পাশ হয়ে গেল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব।

এমনিতেই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা বেশি, তার ওপর অন্তত দশ জন রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেন। হাউস অব রিপ্রেজেনটিভে ইমপিচমেন্ট নিয়ে ভোটের ফল ২৩২-১৯৭। এরপর বিষয়টি উঠবে সেনেটে। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আর দাঁড়াতে পারবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন: বাগবাজারে ঝুপড়িতে ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন।

৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার পরই বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়। এর আগে ২০১৯-এও এক বার ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। গত ১৩ মাসে দ্বিতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি ট্রাম্প।

আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। সে দিনই খুলবে সেনেট।  ট্রাম্প ইমপিচড হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, মার্কিন মুলুকে নতুন করে কোনও অশান্তি ছড়ায় কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

ইতিহাসে প্রথম, প্রসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বার হাউসে ইমপিচড হলেন ট্রাম্প। এহেন পরিস্থিতিতে জো বিডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করা হবে ওয়াশিংটন ডিসিতে। মঙ্গলবার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, জানুয়ারির ২০ তারিখ বিডেনের শপথগ্রহণ ভণ্ডুল করতে রীতিমতো পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে ট্রাম্পের সমর্থকরা বলে খবর। তাই স্থানীয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মদত দেওয়ার জন্য সশস্ত্র সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান ড্যানিয়েল হোকানসন জানিয়েছেন, আগামী শনিবারের মধ্যেই ওয়াশিংটনে ১০ হাজার জওয়ান পৌঁছে যাবে। তবে পরিস্থিতি বুঝে ও স্থানীয় প্রশাসন চাইলে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫ হাজারও হতে পারে। এফবিআইয়ের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন আর্মি সেক্রেটারি রায়ান ম্যাককারথি। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। যা বলবৎ থাকবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৬ থেকে ২৪ পর্যন্ত শহরের বেশ কিছু এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দারা। কয়েকদিন আগেই ক্যাপিটল ভবন ঘিরে ফেলে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন ট্রাম্পপন্থীরা। নজিরবিহীন হিংসার সাক্ষী থাকে দুনিয়ার প্রাচীনতম গণতন্ত্র। অশান্তিতে মৃত্যু হয় চারজনের। ২০ জানুয়ারি অর্থাৎ জো বিডেনের শপথগ্রহণের দিন ফের সেরকমই হিংসা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক। ক্যাপিটলে হামলা নিয়ে সতর্ক এফবিআই-ও। ইতিমধ্যে তাঁদের খবরের ভিত্তিতে ওয়াশিংটনে মিলিটারির ন্যাশনাল গার্ডস ও স্পেশ্যাল সিকিউরিটি এজেন্সির নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাধারণত কয়েক লক্ষ মানুষ আসেন। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে বিডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিড় হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবুও সেই অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না মার্কিন প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x