নয়া বিল পাঠাবে CESC, তার আগে টাকা দেবেন না। বৈঠকের পর বার্তা দিলেন শোভনদেব।

নয়া বিল পাঠাবে CESC, তার আগে টাকা দেবেন না। বৈঠকের পর বার্তা দিলেন শোভনদেব।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নয়া বিল পাঠাবে CESC, তার আগে টাকা দেবেন না। এভাবেই CESC-র গ্রাহকদের আবেদন করলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। আজ সংস্থার কর্তাদের সাথে বৈঠক হয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেবের। শহর এবং শহরতলীর কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কথা। আগে যাদের মাসিক ৫০০-১০০০ টাকা মাসিক বিল আসতো। এক ধাক্কাতেই এমাসে তাদের বিল আসছে ৪০০০-১০০০০ মধ্যে। কেন এমন হচ্ছে?

আরও পড়ুনঃ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি গায়িকা নির্মলা মিশ্র।

এদিন বিল বিতর্ক নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর সাথে বৈঠক হয় CESC-র কর্তাদের। বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভন্দেব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “আমার সঙ্গে সব কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বিল ধরে ধরে ওদের কাছে ব্যাখা চেয়েছি। কোনও গ্রাহকের লাইন কাটা যাবে না। লেট পেমেন্ট চার্জ করা যাবে না। আমার সঙ্গে সিইএসসি-কর্তাদের কথা হয়েছে। ওঁরা নতুন করে বিল পাঠাবেন। সেই বিল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেউ টাকা জমা করবেন না। ওঁরা একটু সময় চেয়েছেন। দু’তিন দিন সময় লাগবে।”

CESC লকডাউনের সময়ে মার্চ, এপ্রিল,মে মাসের কোন রিডিং নেয়নি। আগের বছর ঐ মাসের খরচ কিংবা গত ছয় মাসের গড় টাকা বিল পাঠিয়েছে। এখন জুনে এসে চার মাসের(মার্চ, এপ্রিল,মে,জুন) রিডিং একসাথে হিসেবে বিল পাঠাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে তিনমাসে মোট গড় বিল যা দেওয়া হয়েছে, তারথেকে অনেক অনেক কম অংক অ্যাডযাস্ট করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কোন অ্যাডযাস্ট করাই হয়নি। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে জুনে যে বিলটা দিচ্ছে সেটা আপনার  চারমাসের আসল ও মোট বিল।

আর আগের তিন মাসে দেওয়া গড় বিলটা কোন হিসেবে আসছে না। একই জিনিস হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যারা লকডাউনে রিডিং নেওয়া হচ্ছেনা জেনে কোন গড় বিল দেননি। তাদের তিনমাসে বাকি থাকা গড় বিলের সাথে চারমাসের আসল যোগ করে বিল আসছে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই তিনমাসের প্রায় ডবল বিল দিতে হচ্ছে। কোন ক্ষেত্রে চারমাসের মোট খরচকৃত ১০ ইউনিটের ২০৩০ টাকা বিল এসেছে। আবার চারমাসের বিল একসাথে হিসেবের ফলে প্রত্যেক সাধারন গ্ৰাহকের কমবেশি ৩০০-১০০০ টাকা বিল বেশি হয়েছে।

নয়া বিল পাঠাবে CESC। এই পরিস্থিতি তে রাজ্য জুড়ে CESC-র বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়। অনেক এলাকায় অফিস ঘেরাও পর্যন্ত হয় সংস্থার। কিন্তু আজ নিজের গ্রাহকদের স্বস্তি দিল সংস্থা। এদিন CESCর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গত দু’মাসের বকেয়া বিদ্যুতের ইউনিটের টাকা আপাতত মেটাতে হবে না গ্রাহকদের। শুধুমাত্র জুন মাসে ব্যবহার করা বিদ্যুতের বিল মেটালেই চলবে। তবে শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে এই ছাড় মিলবে না। সিইএসসি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ ঘোষ বলেছেন, “সব বিষয় স্পষ্ট করে গ্রাহকদের খুব শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে।” অন্যদিকে WBSEDCL এর বিল নিয়েও চরম সংকটে পড়েছেন রাজ্যের বাসিন্দারা। অনেক ক্ষেত্রেই লাগামছাড়া বিল আসছে। প্রতিবাদ থাকলেও খবরের শিরোনামে নেই WBSEDCL। এখন দেখার নিজের গ্রাহকদের কবে CESC-র মতই স্বস্তি দেয় কিনা রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা WBSEDCL।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x