ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের নিয়োগ আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যেই, রাজ্যকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

৬ সপ্তাহের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের প্রাথমিক নিয়োগের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট; শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের প্রাথমিক নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ। টেট উত্তীর্ণ ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের ২২০০ শূন্যপদে নিয়োগ করতে রাজ্যকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়োগ কার্যকর না হওয়ায় প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এবার আদালতের নির্দেশে প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত ৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট জানায়, টেট উত্তীর্ণ ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদেরও প্রাথমিক শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অভিযোগ ছিল, এতদিন সেই রায় কার্যকর হয়নি। শুক্রবার বিচারপতি পি নরসিমহা এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দুকারের বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। সেখানেই বোর্ডের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত জানান, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধু আলোচনা নয় — ৬ সপ্তাহের মধ্যে রায় কার্যকর করতে হবে। এতে স্পষ্ট যে আদালত ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের নিয়োগে আর কোনও বিলম্ব বরদাস্ত করবে না। রাজ্য সরকারের ওপর এই নির্দেশের ফলে নতুন চাপ তৈরি হল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের নিয়োগ সংক্রান্ত এই রায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে। এতদিন প্রশিক্ষণরত প্রার্থীরা শুধু টেট উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগের বাইরে ছিলেন। এখন আদালতের নির্দেশে তাঁদের জন্য চাকরির রাস্তা খুলে গেল।

রাজ্য সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদও নিয়োগের খসড়া প্রস্তুত করছে। আদালতের দেওয়া সময়সীমা মেনে নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

অনেক শিক্ষাবিদ মনে করছেন, ২২০০ শূন্যপদ পূরণ হলে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে। বিশেষত যেসব স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে নতুন শিক্ষক যোগদান করলে মান উন্নত হবে।

ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষাজগতে প্রতিক্রিয়া তুঙ্গে। প্রার্থীরা আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতটা দ্রুত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ বলছে, আদালতের রায় মানতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, আদালতের নির্দেশের পর রাজ্যকে এখন দায়বদ্ধ হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের নিয়োগ যদি সময়মতো সম্পন্ন হয়, তা হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই প্রাথমিক স্তরে চাকরির সংকটও কমবে। আদালতের কড়া নির্দেশের ফলে প্রক্রিয়াটি দ্রুততর হবে বলেই আশা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত