বাংলাদেশে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সামনে এল আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। ২৫ বছর বয়সি দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে তারা এখন বাংলাদেশ ছাড়ার কথা ভাবছে—এমনটাই জানিয়েছেন দীপুর ভাই অপু দাস।
সোমবার CNN News18-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অপু দাস বলেন, তাঁদের পরিবার আর বাংলাদেশে নিরাপদ বোধ করছে না। তাঁর কথায়, “ওর একটা ছোট বাচ্চা আছে। আমরা যদি সামান্য সাহায্য পাই, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ছেড়ে দেব। আমরা ভারতে ফিরে যেতে চাই।”
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ শহরে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, দীপু একটি কাপড়ের কারখানায় কাজ করতেন। ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রথমে তাঁকে কাজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে কারখানার বাইরে থাকা উত্তেজিত জনতার হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ না পেয়েই দীপুকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পরিবারের দাবি, মারধরের পর তাঁকে একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে আগুন লাগানো হয়। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
দীপু দাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সংখ্যালঘু পরিবারগুলির নিরাপত্তা, গুজব ও উত্তেজনার জেরে সহিংসতার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, তা মানছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এই ঘটনার পর দীপুর পরিবারের একটাই আবেদন—নিরাপত্তা ও শান্তির খোঁজে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। তাঁদের কণ্ঠে তাই বারবারই ফিরে আসছে একটাই কথা—“আমরা ভারতে ফিরতে চাই।”



