নজরবন্দি ব্যুরো: দমবন্ধ দীনেশের বড়ো সেটিং! বাজপেয়ীর আমল থেকে দলের সঙ্গে কেন্দ্রের বোঝাপড়ার সেতু ছিলেন তিনি। তারপর নিজের দলের প্রোটকলে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ রাজ্যসভার ভাষণ দিতে গিয়ে হঠাৎই পদত্যাগ এবং দলত্যাগ। এতদূর অবধি ঠিক চলছিল। তবে রাজ্যে যে হারে রাতারাতি রাজনীতির জার্সি বদলাচ্ছেন দলনেতারা, তাতে এই মুহূর্তে কেউ দলত্যাগ করলেই সকলে আগে ভাবতে থাকেন তাঁর বিপরীত দলের যোগদানের দিন সম্ভাব্য কবে হতে চলেছে।
তৃণমূল থেকে বেরিয়েও রাজ্যের জন্য কাজ করতে চান বলে জল্পনাকারী দের মনে কিঞ্চিৎ আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। তারপর বিজেপি নেতাদের “ওয়েলকাম” বার্তার ধুম দেখে এবারও মানুষ দিন গোনা শুরু করে দিয়েছেন ত্রিবেদী বিজেপি যোগের। মমতার দুর্দিনের সঙ্গী দীনেশ। বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থেকেছেন তিনি। আজ দল ছাড়ার আগে দলের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খানিকটা “দলে থেকে কাজ করতে পারছিনা” ধরনের মন্তব্য করে নিজের যুক্তি দিয়ে গেছেন দলত্যাগের পর থেকেই। বিজেপির নেতা মন্ত্রীরাও প্রায় দলোত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই শুভেচ্ছা বার্তার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। প্রাক্তন তৃণমূল এবং বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং থেকে দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গি, সকলে বিজেপিতে স্বাগত জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু কী বলছেন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থরা? দীনেশের এই দলত্যাগে তৃণমূল ধাক্কা খেলো কিনা এখনই বলা না গেলেও, তৃণমুলের নেতা মন্ত্রীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঘটনায়।
দমবন্ধ দীনেশের বড়ো সেটিং! দীনেশ ত্রিবেদীর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টই বলেছেন, “গুজু ভাইদের সঙ্গে বড়ো জায়গায় বড়ো সেটিং হয়ে গেছে।” অন্যদিকে দীনেশকে খোঁচা দিয়েছেন তৃণমূলের ডেপুটি লিডার সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি ত্রিবেদীর দলত্যাগ প্রসঙ্গে বলা “দমবন্ধ” যুক্তিকে তুলে মনে করিয়ে দিয়েছেন গত লোকসভা ভোটে হেরে গিয়েও দমবন্ধ লাগছিল তাঁর।
বর্ষীয়ান নেতা এত ঘন ঘন দমবন্ধ হয়ে আসার বিষয়কে বেশ চিন্তার বিষয় বলে খোঁচা দিয়েছেন এদিন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা এবং প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় অবশ্য পুরোনো সহকর্মীকে দলথেকে হারিয়ে ব্যাথিত। তিনি জানিয়েছেন “মন ভালো নেই”। এতদিন একসঙ্গে কাজ করার পর হঠাৎ এই দলত্যাগ মনখারাপ সৌগত রায়ের।



