সল্টলেকে শমীকের সঙ্গে বৈঠকে দিলীপ ঘোষের, রাজনীতির উত্তাপে ঘোষ বাবুর বড় বার্তা

সল্টলেকে বিজেপি কার্যালয়ে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজনীতির উত্তাপে গরম দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘দল যা বলবে, তাই করব।’

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২১ জুলাইয়ের প্রেক্ষাপটে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তারই মাঝে চমক দিলেন বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বহুদিন পরে সল্টলেকের বিজেপি সদর দফতরে এসে দেখা করলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে।

তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। অনেকেই ভেবেছিলেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলেছিলেন, দিলীপ ঘোষ হয়তো তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু এদিনের বার্তা তার বিপরীত।

 বিজেপি দফতরে ফিরলেন দিলীপঃ
ভরা বর্ষায় বিজেপির সদর দফতরে প্রায় ১০ মিনিটের আলোচনায় মিললেন দুই নেতা — শমীক ও দিলীপ। বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ বলেন,
“আপনার হাত ধরেই আমরা নবান্নে পৌঁছব।”
তিনি আরও বলেন,
“আপনি যা আদেশ করবেন, আমি একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে মান্য করব। পার্টি যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তার সঙ্গেই থাকব।”

সল্টলেকে শমীকের সঙ্গে বৈঠকে দিলীপ ঘোষের, রাজনীতির উত্তাপে ঘোষ বাবুর বড় বার্তা

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি পরোক্ষে বুঝিয়ে দেন, দলীয় নেতৃত্বে তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তিনি দলত্যাগ করছেন না।

 শমীককে দিলীপের ‘ভরসা’ঃ
দিলীপ ঘোষ একপ্রকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আমি নই, রাজ্যের সমস্ত পুরনো বিজেপি কর্মীরা শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আছেন।”
তিনি আরও জানান,
“আমি নিজে মেদিনীপুরে বুথের বৈঠক করেছি। সাতশো’র বেশি বুথে কাজ চলছে। পার্টি যে সাংগঠনিক কাজ চালাচ্ছে, আমি তার অংশ।”

তাঁর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহল ‘দলের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ’ বলেই দেখছে।

 ‘দলীয় প্রভাব’ বনাম ‘রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ’:
গত কয়েক মাস ধরেই দিলীপ ঘোষের অবস্থান নিয়ে রাজনীতির অন্দরমহলে নানা প্রশ্ন ঘুরছিল। বিশেষ করে, কিছু বিজেপি কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা বাড়ছিল।

তবে এদিন দিলীপ ঘোষ নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন—
“আমি এখন কোনও পদে নেই। সেই কারণে প্রতিটি কর্মসূচিতে আমাকে থাকতে হবে, এমন নয়। আমি আমার নিজের জেলার দায়িত্ব পালন করছি।”

এই মন্তব্যে তিনি নিজের দলের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে দিলেন।

 ভবিষ্যতের দিকে নজর:
শমীক-দিলীপ সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে বিজেপি রাজনীতির নতুন পর্বের সূচনা। বিজেপি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পালনে শমীক ভট্টাচার্যের পাশে দিলীপ ঘোষের দৃশ্যমান উপস্থিতি দলের অন্দরমহলে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

বলাই যায়, দলীয় ঐক্য প্রদর্শনের পাশাপাশি আগাম নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে বিজেপি। দিলীপের মতো অভিজ্ঞ নেতার সহায়তা এবং সাংগঠনিক উপস্থিতি দলের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর