‘ভিনরাজ্যে আর কাজের খোঁজে যেতে হবে না’, পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় আশ্বাস দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

সুন্দরবনের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে যাওয়া কমাতে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে জোর, নতুন রোজগার গ্যারান্টি কার্ড চালুর ঘোষণা। আবাস যোজনা নিয়েও কড়া বার্তা দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যের বাইরে কাজের খোঁজে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে বড় বার্তা দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর দাবি, সরকার গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে, যাতে জেলার মধ্যেই কাজের সুযোগ তৈরি হয় এবং জীবিকার জন্য আর ভিনরাজ্যে যেতে না হয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, কাজের দিন ও মজুরি—দুটিই বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।

বুধবার সোনারপুরের জয়হিন্দ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষ জীবিকা হারান। সেই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অনেকেই অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে যান। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শুধু কর্মদিবস বাড়ানোই নয়, শ্রমিকদের মজুরিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার মানুষের হাতে আরও বেশি কাজ পৌঁছাবে এবং স্থানীয় স্তরেই আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

দিলীপ ঘোষ আরও জানান, পর্যায়ক্রমে নতুন গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড চালু করা হচ্ছে। যাঁরা বাইরে কাজ করতে গিয়ে আবার রাজ্যে ফিরে আসবেন, তাঁদেরও এই প্রকল্পের আওতায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সোনারপুরের বৈঠকের পাশাপাশি এদিন বারাসতের রবীন্দ্রভবন-এও প্রশাসনিক বৈঠক করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পঞ্চায়েত আধিকারিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন, জল জীবন মিশন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আবাস যোজনা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে আবাস প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই বর্তমানে সমীক্ষার কাজ চলছে, যা ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে। নিয়ম ভেঙে যাঁরা আবাস যোজনার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর