সদ্য সমাপ্ত লোকসভায় সাংসদ পদ হারিয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বঙ্গ বিজেপির অন্যতম স্তম্ভ ক্রমেই দলের মধ্যে কোণঠাসা এরকম খবরও একাধিকবার চাউর হয়েছে। নির্বাচনে হেরে দলের ‘স্ট্র্যাটেজি’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর একাধিক কথা নানান সময় নানান বিতর্ক তৈরি করেছে। হারের পর নিজের ইচ্ছেতেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় ঘুরেছেন দিলীপ। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও বিজেপি (BJP) কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছেন। কিন্তু সেভাবে দলের তরফে কোনও দায়িত্ব আসছিল না, ‘কাজ পাগল’ দিলীপ (Dilip Ghosh) ঘোষণাও করেন, তাঁকে দায়িত্ব না দিলে আগামীদিনে তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন।
এইসব নানান জল্পনা কল্পনার মধ্যে বিজেপি (BJP) সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) হয়তো এখনই রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে হবে না। কারণ, আর বছর দুয়েক পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চায়, ২৬ বিধানসভার গুরুদায়িত্ব থাক দিলীপের ওপর! কয়েকদিন আগে বিজেপির বর্ধিত কার্যকরিণী সমিতির বৈঠকে দিলীপ (Dilip Ghosh) হাজির ছিলেন। সেখানে কর্মীদের মধ্যে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির সঙ্গে ছবি তোলার। দিলীপ মঞ্চে উঠতেই ব্যাপক হাততালি পান।

বিজেপির অন্দরে দিলীপের (Dilip Ghosh) এই ‘ক্রেজ’-কেই কাজে লাগাতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফলে, আবার নতুন করে দায়তে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। বিষ্ণুপুর, মেদিনীপুর, যাদবপুর, মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার বৈঠকে রাজ্য দলের পক্ষে পাঠানো হয় দিলীপকে। সেখানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন তিনি। সূত্রের খবর, দিল্লি থেকেই দিলীপকে কাজ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে।
দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) সঙ্গে বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘সম্পর্ক’ খুব ভালো নয় এরকম একটা গুঞ্জন শোনা যায়। তবে, প্রকাশ্যে কখনও একে অপরের বিরুদ্ধে সেভাবে মুখ খোলেননি। দিলীপ ঘোষই যে এ রাজ্যে বিজেপিকে ‘নির্বাচনী প্রতিষ্ঠা’ দিয়েছেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ২০২১ বিধানসভায় বিজেপির (BJP) আসন ৩ থেকে বেড়ে হয় ৭৭। তার আগে ২০১৯ লোকসভায় ২ আসন থেকে বেড়ে হয় ১৮! অথচ সেই সংখ্যক আসনই ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব।
যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এই ফলাফল সাফল্য বলে মনে হয়নি। ২০২১ সালেই বাংলা ‘দখল’ করতে চেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহ। এরপর রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় দিলীপকে। সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হলে সেখানেও রদবদল হয়। অবশেষে মেদিনীপুর থেকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে দাঁড় করানো হয় দিলীপকে। তৃণমূলের কীর্তি আজাদ অনায়াসে হারিয়ে দেন তাঁকে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও দলের মধ্যে দিলীপের জনপ্রিয়তায় ‘ভাঁটা’ পড়েনি। বরং, তাঁর হেরে যাওয়া এবং রাজনৈতিক অবসরের কথা জানাজানি হতে কর্মীদের মধ্যে একটা মনখারাপের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এবার দিলীপ ঘোষ নতুন করে কোন দায়িত্ব পান এবং সুকান্ত মজুমদারের পরিবর্তে তাঁকেই রাজ্য সভাপতি পদে ফিরিয়ে এনে ২০২৬ বিধানসভার ‘ব্লুপ্রিন্ট’ বিজেপি প্রস্তুত করে কিনা সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



