রাজ্য রাজনীতিতে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দল চাইলে তিনি আবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। আর সেই লড়াইয়ের ময়দান হিসেবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—খড়গপুর তাঁর প্রথম পছন্দ।
দিল্লিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, “দল চাইলে আমি রাজ্যের নির্বাচনেও লড়ব। যা দায়িত্ব দেবে, সেটাই পালন করব।”


খড়গপুরেই ফের জয়ের খোঁজে দিলীপঃ
২০১৬ সালে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা জ্ঞান সিং সোহনপালকে হারিয়ে বিধায়ক হন দিলীপ ঘোষ। সেই জয়ের মাধ্যমেই বিজেপির হয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর ওজন বেড়ে যায়।
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। তাঁর অনুগামীরা বিশ্বাস করেন, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচনে মেদিনীপুর ও দুর্গাপুর—দুই আসনেই হার দেখে বিজেপি। দিলীপ বলেন, “আমি বলেছি, আমার জায়গা খড়গপুর। লড়তে হলে এখান থেকেই লড়ব।”
বিজেপি নেতৃত্বে ক্ষোভ, তবে সৈনিক হিসেবেই থাকবেনঃ
বিজেপির নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্তে তিনি যে ক্ষুব্ধ, সে কথাও ঘুরিয়ে বলেন দিলীপ। তবে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, “আমি দলে সৈনিক হিসেবেই আছি। যা দায়িত্ব দেওয়া হবে, পালন করব।”


দলের অভ্যন্তরে গুরুত্ব হারানো এবং প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে প্রচুর চর্চা হলেও দিলীপ ঘোষ এখন ধৈর্যের সঙ্গে নিজের ভূমিকা খুঁজে নিচ্ছেন। রাজ্য বিজেপির নতুন পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা সময় বলবে।
স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও নির্বাচনে লড়তে আগ্রহীঃ
দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দিল্লিতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন, দলের নির্দেশ পেলে তিনিও লড়াইয়ে নামতে পারেন। তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“হারার জন্য দাঁড়াব না। যদি মনে হয় জেতার মতো পরিস্থিতি আছে, তবেই প্রার্থী হব।”
রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে ফের চর্চায় দিলীপঃ
দিলীপ ঘোষ আবারও নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। খড়গপুর কেন্দ্রকে ঘিরে তাঁর এই ঘোষণা যে রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলে জল্পনা বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।







