পিনকোডের দিন ফুরোল? ঠিকানা চেনার নতুন উপায় নিয়ে আসছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। এবার প্রতিটি ঠিকানার জন্য চালু হচ্ছে ডিজিটাল পোস্টাল ইনডেক্স নম্বর বা ডিজিপিন (DigiPIN)। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই ১২ অঙ্কের আলফা-নিউমেরিক কোড হবে প্রতিটি ঠিকানার নিজস্ব আইডেন্টিটি।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে IIT Hyderabad এবং ISRO। দুই সংস্থার সহায়তায় তৈরি হয়েছে এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে গোটা দেশকে ৪ মিটার x ৪ মিটার ভাগে ভাগ করে জিওকোডেড ভাবে চিহ্নিত করা হবে। প্রতিটি অংশ পাবে একটি একক, নির্ভুল ও নিরাপদ ডিজিপিন।


পিনকোড নয়, এ বার ‘ডিজিপিন’, ঠিকানার জন্য আসছে ১২ অঙ্কের ডিজিটাল আইডি

ডেলিভারিতে আসবে বিপ্লব:
বর্তমানে পিনকোড ব্যবস্থায় অনেক সময়েই ঠিকানা সঠিক থাকা সত্ত্বেও চিঠি বা পার্সেল পৌঁছতে সমস্যা হয়। বিশেষত দুর্গম গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায়। কিন্তু ডিজিপিন চালু হলে ঠিকানার নির্ভুল অবস্থান ল্যাটিচিউড-লংিচিউডের মাধ্যমে চিহ্নিত হবে, ফলে ডেলিভারিতে আর কোনও দেরি বা বিভ্রান্তি থাকবে না।
ডিজিপিন কীভাবে কাজ করবে?
ডিজিপিন পাওয়া যাবে ডিজিপিন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে গিয়ে।
ঠিকানা বা GPS লোকেশন দিলেই মিলবে ১২ অঙ্কের একক কোড।
প্রতিটি কোড একটি নির্দিষ্ট ১৬ বর্গমিটারের অংশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
ডেলিভারি পার্সন বা পিয়ন সরাসরি GPS দেখেই পৌঁছে যাবেন সেই জায়গায়।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা:
ডিজিপিন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। চাইলেই কোনও ডেলিভারি সংস্থা এই ঠিকানা ব্যবহার করতে পারবে না। এটি হবে একান্তই ব্যক্তির সম্মতির উপর নির্ভরশীল। ফলে ইকমার্স সংস্থা বা থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন গোপনে ঠিকানা বিক্রি করতে পারবে না।


সরকারি পরিষেবার পরিধি বাড়াবে:
এই ব্যবস্থার ফলে যেসব গ্রামীণ এলাকায় ঠিকানা না থাকায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছাতে পারেনি, এবার তারা ডিজিপিনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, ও সরকারি স্কিমের সুযোগ সহজেই পাবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ১০০-৪০০ কোটি ডলারের লোকসান রোধ করা যাবে বলেই মনে করছে সরকার।
ডিজিপিন ব্যবস্থার সুবিধাগুলি:
১) সঠিক ও নির্ভুল ঠিকানা শনাক্তকরণ
২) গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় পরিষেবা সহজ
৩) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা
৪) GPS-ভিত্তিক ডেলিভারি
৫) সরকারি তথ্যভাণ্ডারে একক ঠিকানা নথিভুক্তি
৬) অকারণে ঠিকানা বিভ্রাট রোধ
৭) ই-কমার্স ডেলিভারির সময় বাঁচানো
৮) সময় ও টাকার অপচয় হ্রাস
পিনকোডের যুগ পেরিয়ে ভারত এ বার পা রাখছে ডিজিটাল ঠিকানার যুগে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শহর—সব ঠিকানাকে একটি ছাদের নীচে আনতে সাহায্য করবে ডিজিপিন। সরকারের এই ডিজিটাল গভর্ন্যান্স প্রকল্প আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জীবন অনেকটাই সহজ করবে, এমনটাই আশা বিশেষজ্ঞদের।







