দিঘার (Digha Jagannath Temple) জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার পালিত হচ্ছে জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা (Snana Yatra 2026)। ধর্মীয় রীতি মেনে মূল মন্দিরের বাইরে বিশেষ স্নানমণ্ডপে ১০৮ কলস পবিত্র জল, দুধ ও বিভিন্ন উপচার দিয়ে মহাস্নান করানো হবে জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার দারুমূর্তিকে। স্নানের পর গজবেশ ধারণ করবেন জগন্নাথদেব এবং নিবেদন করা হবে ঐতিহ্যবাহী ৫৬ ভোগ। এরপর শুরু হবে অনবাসর পর্ব, যার ফলে আগামী ১৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত তিন দেবদেবীর দর্শন বন্ধ থাকবে।
দিঘা জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টি কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল মন্দিরের পাশের স্নানমণ্ডপেই এ বছরের স্নানযাত্রার সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। সোমবার সকালে পহন্ডি বিজয় (Pahandi Bije) অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দির থেকে স্নানমণ্ডপে আনা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে মহাস্নানের মূল অনুষ্ঠান। ধর্মীয় রীতি অনুসারে পবিত্র জল, দুধ এবং বিভিন্ন সুগন্ধি উপকরণ মিশিয়ে দেবতাদের অভিষেক করা হয়। স্নান শেষে বিগ্রহ পুনরায় মূল মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
দুপুর ১টা নাগাদ জগন্নাথদেব গজবেশ (Gaja Besha) ধারণ করবেন। এই বিশেষ সাজে ভক্তদের উদ্দেশে নিবেদন করা হবে ৫৬ ভোগ। জগন্নাথ সংস্কৃতিতে গজবেশের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে এবং স্নানযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে এই পর্বকে ঘিরে ভক্তদের উৎসাহ থাকে তুঙ্গে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাস্নানের পর অতিরিক্ত জলস্নানের কারণে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই কারণেই শুরু হয় অনবাসর (Anasara)। এই সময়ে দেবতারা জনসাধারণের দর্শনের বাইরে থাকেন এবং রথযাত্রার আগে নবযৌবন দর্শন (Nava Jaubana Darshan)-এর মাধ্যমে পুনরায় ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে ১৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার দর্শন বন্ধ থাকবে। তবে এই সময়েও মন্দির খোলা থাকবে এবং ভক্তরা রাধা মদনমোহন (Radha Madanmohan)-এর দর্শন, পূজা, আরতি ও নিত্যসেবায় অংশ নিতে পারবেন।
এদিকে, আসন্ন রথযাত্রাকে সামনে রেখে দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদে (Digha-Shankarpur Development Authority) প্রশাসনিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে দ্বিতীয় রথযাত্রা হওয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






