বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল ঢাকায়। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার দাবিতে শুক্রবার রাতভর রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। শনিবার সারা দিনও এই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কী দাবি বিক্ষোভকারীদের
ইনকিলাব মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু প্রতীকী আশ্বাস নয়—হাদি হত্যার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শাহবাগে এসে তাঁদের সামনে জবাবদিহি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর সরকারি বাসভবন যমুনা ঘেরাও করার কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। সরকারি উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ছ’দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় গণবিক্ষোভের সময় সরকারি ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
বাংলাদেশ পুলিশ একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করলেও, মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ এখনও অধরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
‘রাজপথ ছাড়ব না’—ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন,
“যতক্ষণ না হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। সারা দেশ থেকে মানুষ আসছে। এই অবস্থান চলবে।”
হাদির ভাই ওমর আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না এবং পরিস্থিতি বাধ্য করলে যমুনা বা ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও নিতে পারেন।
নারী-শিশুর অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গভীর রাতেও শাহবাগে অবস্থান চলেছে। বিক্ষোভস্থলে নারী ও শিশুর উপস্থিতিও চোখে পড়ে।
শনিবার হাদির সমাধিস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করা হবে।



