ধনধান্য স্টেডিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত ছাত্র সপ্তাহের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে চরম উন্মাদনা ছড়াল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সাংসদ-অভিনেতা দেব থেকে নাট্যকার ব্রাত্য বসু, সঙ্গীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয় থেকে বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়— সবাই গানে মেতে ওঠেন।
অনুষ্ঠানটি রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পালিত ছাত্র সপ্তাহের অংশ। এই মঞ্চ থেকেই মমতা রাজ্যের কৃতী পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করেন এবং এক অন্যরকম উদযাপনে সকলকে সামিল করেন।


দেবের অকপট স্বীকারোক্তি এবং গান
ঘাটালের সাংসদ দেব, মঞ্চে উঠে অকপট স্বীকার করেন, “সিএমের সামনে আমার সব গুলিয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “একটা গান আমার মাথায় এসেছে, কিন্তু এটা গাইলে এখন থেকেই ট্রোল শুরু হবে।” নাছোড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকে গান গাওয়ার জন্য চাপ দেন।
শেষমেশ দেব গেয়ে ওঠেন, “হে ইউ, লিসেন টু মি, ইউ আর মাই লাভ, ইউ আর মাই লাভ, ও মধু, ও মধু, আই লাভ ইউ…”। মঞ্চের উল্টোদিকে উপস্থিত পড়ুয়ারা তখন প্রবল উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে।


মমতার সুরেলা অনুরোধ
অনুষ্ঠানে বক্তৃতার পরিবর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত বিশিষ্টদের ২ লাইন করে গান গাওয়ার অনুরোধ জানান। শুরুটা করেন বিধায়ক ও সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি, যিনি ‘আগুনের পরশমণি’ গানটি পরিবেশন করেন। এরপর সায়নী লোকসঙ্গীত ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব’ গেয়ে মন জয় করেন।
মমতার অনুরোধে মঞ্চে উঠে একে একে গান পরিবেশন করেন জুন মালিয়া, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়, ইন্দ্রনীল সেন, এবং নাট্যকার ব্রাত্য বসু।
ইন্দ্রনীল সেনের গানে চমক
মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর সুরেলা কণ্ঠে পরিবেশন করেন, ‘মনে পড়ে রুবি রায়, কবিতায় তোমাকে…’। মঞ্চের নীচে থাকা পড়ুয়াদের মধ্যে তখন প্রবল উচ্ছ্বাস। তাঁর পরিবেশনা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “জমিয়ে দিয়েছে!”
শেষে জমকালো সমাপ্তি দেবের গানে
অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে মঞ্চে ডাক পড়ে দেবের। ২০১১ সালের একটি ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে দেব নিজে জানান, “শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে আমি ভুল করে ‘পাগলু’ গানটা গেয়ে ফেলেছিলাম!” এরপর ইন্দ্রনীল সেন রসিকতা করে বলেন, “কে তুমি নন্দিনী গানটা গা।”
চাপের মুখে পড়ে দেব অল্প সুর মেলান ইন্দ্রনীলের ‘কে তুমি নন্দিনী’ গানে। এরপর নিজের সিগনেচার স্টাইলে পরিবেশন করেন ‘ও মধু, আই লাভ ইউ!’। এই পরিবেশনা যেন বসন্তের উন্মাদনায় ভরিয়ে তোলে মঞ্চ।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এভাবে গান, সুর, এবং মনের উচ্ছ্বাস ছাত্রছাত্রীদের আরও অনুপ্রাণিত করে। আমরা রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহ দিতে চাই।”








