ঘাটাল মানেই দেব—এই নাম দু’টি যেন আলাদা করাই যায় না। এই ঘাটাল থেকেই সাংসদ হয়ে টানা তিন বছর মানুষের প্রতিনিধি ছিলেন দেব। সেই ঘাটালেই বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, শিশু মেলায় হাজির ছিলেন দেব ও রুক্মিণী মৈত্র। আর সেখানেই মঞ্চে মজার খুনসুটির মাঝেই উঠে এল ঘাটালের বহুদিনের এক আক্ষেপ—সিনেমা হল না থাকার কথা।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রথমে রুক্মিণী বলেন, “দীপক অধিকারীকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এই অনুষ্ঠানে নিয়ে আসার জন্য।” সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে থামিয়ে দেব হেসে বলেন, “আমি তো চাইছিলামই না, সবাই চাইছিল তাই এনেছে।” এর জবাবে রুক্মিণীর পাল্টা খোঁচা, “তাহলে পরের বার অন্য কাউকে নিয়ে এসো।” আর তাতেই দর্শকাসন থেকে একের পর এক নায়িকার নাম ভেসে আসে, হাসির রোল ওঠে গোটা ময়দানজুড়ে।


খুনসুটির রেশ কাটতে না কাটতেই রুক্মিণী হঠাৎই গম্ভীর সুরে বলেন, “আমি একটা কথা এখানে বলতে চাই। দীপক অধিকারীকে অনুরোধ করব, ঘাটালে একটা সিনেমা হল তৈরি করে দেওয়ার জন্য।” নায়িকার এই আবদারে মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা।
রুক্মিণীর কথায় সহমত জানিয়ে দেব বলেন, “আমি সব সময় ঘাটালের ভালোর কথাই ভেবেছি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এতদিন লড়াই করেছি। এখন যখন সেই কাজ শুরু হয়েছে, তখন সিনেমা হল নিয়েও ভাবা যেতেই পারে।” এরপরই তিনি প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেন, “আমি আজ এখানেই কথা দিয়ে যাচ্ছি—আগামী দিনে ঘাটালে একটা সিনেমা হল তৈরি হবে। উদ্বোধনে আমি আর রুক্মিণী তো আসবই, চেষ্টা করব কোয়েলকেও নিয়ে আসার। দুই রুক্মিণী মিলেই সিনেমা হল উদ্বোধন করবে।”
দেবের এই ঘোষণায় কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কারণ স্থানীয়দের দাবি, ঘাটালে আগে সিনেমা হল থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সিনেমা দেখতে হলে এখনও বহু দূরে যেতে হয়। ফলে দেবের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে ঘাটালবাসীর কাছে তা নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি হবে।


উল্লেখ্য, এদিন বেশ সাজগোজ করেই ঘাটালে পৌঁছেছিলেন রুক্মিণী। পিচ রঙের শাড়িতে নজর কাড়েন ‘ঘাটালের হবু বউমা’। অন্যদিকে দেব ছিলেন একেবারেই সাদামাটা—ডেনিম আর কালো জ্যাকেটে। কখনও হাত নেড়ে, কখনও চুমু ছুঁড়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় এই তারকা জুটিকে।







