রাজনীতির ময়দান হোক বা রুপোলি পর্দা—দু’ ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ দেব। বিতর্ক, কটাক্ষ আর সমালোচনার পাঁচিল ডিঙিয়ে গত দু’দশকে তিনি যে জায়গায় পৌঁছেছেন, তা আজ আর অস্বীকার করার নয়। সেই দীর্ঘ যাত্রাপথেরই এক অনন্য স্বীকৃতি মিলল শনিবার। দেবের নামে ডাকটিকিট চালু করল India Post—আর তাতেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে ঘাটাল থেকে টলিপাড়া।
শনিবার এই সুখবর সামনে আসতেই আবেগ লুকোননি টলিউড সুপারস্টার-সাংসদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সদ্য প্রকাশিত ডাকটিকিটের ছবি ভাগ করে নিয়ে দেব লেখেন, তিনি ভীষণভাবেই সম্মানিত ও অভিভূত। ট্রেনের ইঞ্জিনের পটভূমিতে তাঁর মুখখচিত সেই ডাকটিকিট ইতিমধ্যেই নজিরবিহীন সম্মানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় ডাক বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেব বলেন, “আমার নামে ডাকটিকিট চালু করার মতো সম্মান যে আমি পাব, তা কোনও দিন কল্পনাও করিনি। ইন্ডিয়া পোস্টকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।” এখানেই থামেননি তিনি। অভিনেতা-সাংসদের সংযোজন, “একজন মানুষ হিসেবে জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের এই স্বীকৃতি আমার পরম প্রাপ্তি। আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
খবর, শুক্রবার নিজের সংসদীয় এলাকা ঘাটাল-এ মেলার উদ্বোধনে গিয়েই এই বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশ্যে আনেন দেব। স্বাভাবিকভাবেই ঘাটাল জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। দীর্ঘদিন ধরে যাঁকে ‘নেতা-অভিনেতা’ হিসেবে আপন করে নিয়েছেন স্থানীয় মানুষ, তাঁর এমন জাতীয় স্বীকৃতিতে গর্বিত গোটা এলাকা।
এক সময় বাচনভঙ্গী ও স্টাইল নিয়ে যাঁকে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল, সেই দেবই সৌজন্য, ধারাবাহিকতা আর জনসংযোগের জোরে আজ বাংলার জনপ্রিয়তম মুখগুলির এক জন। ভারতীয় ডাকটিকিটে তাঁর মুখ—সে শুধু একজন তারকার নয়, বরং মানুষের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ সফরের স্মারক। আর সেই স্মারক ঘিরেই এখন উন্মাদনায় ফুটছে দেবের ভক্তশিবির।









