ডেস্টিনেশন আলাদা, চেনা গণ্ডীর বাইরে ভোট ময়দানে “রিয়্যালিটি শো” দেব-মিঠুনের!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: ডেস্টিনেশন আলাদা, চেনা গণ্ডীর বাইরে ভোট ময়দানে “রিয়্যালিটি শো” দেব-মিঠুনের! একসময় একই দলের জার্সি পরে লড়াই করতেন, ক্যাপ্টেন ছিলেন একই। এবার দল পরিবর্তন করেছেন একজন, আর এখন আগের মতই এখনো বয়ে নিজে যাচ্ছেন নিজের দায়িত্ব। প্রথম জন মিঠুন চক্রবর্তী আর দ্বিতীয় জন হলেন দীপক অধিকারী অর্থাৎ টলিউডের হার্টথ্রব দেব। তবে তাঁদের সম্পর্কের গাঁটছড়া যে শুধু রাজনীতি রং এর জার্সি তা নয়, আর হলেই বোধহয় এত বেশি করে চোখে পড়ত না কারোরই।

আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুকে জেতাতে নন্দীগ্রামে ‘হিন্দুত্ববাদী’ রামকার্ড খেললেন যোগী আদিত্যনাথ।

মিঠুন আর দেব দুজনেই বাংলা চলচিত্র জগতের দুই জনপ্রিয় মুখ। প্রবীণ মহাগুরু যদিও কাজ করেছেন বহু বছর ধরে বলিউডেও। তবে টলিউডে ছড়িয়ে আছে তাঁর শিকড়। সেদিক থেকে রাজনীতির বাইরেও দুজনের মিল অনেক। দুজনেই শুরু করেছেন নিজেদের মেকাপ ভ্যান আর শুটিংয়ের আলো দিয়ে। তবে রোল ক্যামেরা অ্যাকশনের বাইরে গিয়ে দুজনেই ভালো ভাবে আয়ত্ব করেছেন নিজেদের রাজনীতির গ্রাউন্ড কে। প্রথম জন বর্তমান শাসক দলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ , পদ ছেড়েছেন, আর গেছেন গেরুয়া শিবিরে। দ্বিতীয় জন এখনো শাসক দলের জার্সিতে ব্যাট করছেন লোকসভার সাংসদ হয়ে।

বদলে গেছে তাঁদের দুজনের রাজনীতির রাস্তা। তবে সচেতন নাগরিকদের মতোই সেই আঁচ আসতে দেননি নিজেদের আরেক ঘরে। এখনো একসঙ্গে অনুষ্ঠান করেন, জাজমেন্ট দেন। হাসি তামাশা করেন। আর নির্বাচনের আগে দৃড়তার সঙ্গে প্রচার করেন নিজের দলের হয়ে। বিজেপিতে যোগ দানের পর আজ প্রথম নির্বাচনী সভা করলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। গুরুবারে টানা ৪টি রোড শো করলেন মহাগুরু। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমোর কথায় আজ দীপক অধিকারী গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের অধিকারী কাঁটা তুলতে। আজ বৃহস্পতিবার মোট চারটি রোড শো করেছেন মিঠুন।

ঠাণ্ডা ঘর ছেড়ে মোদীর সেনা হয়ে প্রচার শুরু করেছেন সেই সকাল ৯টা থেকে। একে একে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর হয়ে ঝাড়গ্রাম। একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে সব লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছেন তিনি। অনেকটা সময় গেছে জল্পনায়, এই নির্বাচনে মিঠুন প্রার্থী কিনা, জল্পনা বাড়িয়েই কলকাতার কাশীপুর বেলগাছিয়ার ভোটার হয়েছেন তিনি। তবে প্রার্থী হননি। গেরুয়া শিবিরের হয়ে একেবারে নতুন লুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রচারে। মহাগুরু কে এতকাল পর্দায় দেখে সামনে পেয়ে একেবারে আপ্লুত সাধারণ মানুষ। মানুষের আবেগ বোঝেন তিনি, সদর্পে তিনিও বলছেন, আমি গর্বিত আমি বাঙালি। জানিয়েছেন বাংলার মানুষের জন্য তাঁদের হয়ে কাজ করবেন তিনি।

তবে এই নির্বাচনে মিঠুনের ইউএসপি বাঙালির থেকেও অনেক বেশি তাঁর ডায়লগ। পর্দার বাইরে মাটিতে দাঁড়িয়েও তিনি বাজিমাত করছেন ডায়লগেই। পদ্মবনে যোগ দেওয়ার দিনেই তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমি জাত গোখরো, এক ছোবলেই ছবি, স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ শুনতে চাইছেন তাঁর ডায়লগ, যা শুনে হাততালি দেবেন আবাল বৃদ্ধ, যেমন টা দেন পর্দার ভিলেন কে মারার পরের ডায়লগ শেষের সময়। অন্যদিকে দেব। এই মুহূর্তে টলিউডের অন্যতম হার্টথ্রবের পাশাপশি একজন দায়িত্ববান রাজনীতিবিদ। খুব কম মানুষ আছেন বিরোধী দলেরও যাঁরা আঙ্গুল তুলে সমালোচনা করবেন তাঁর কাজের। শুধু ডায়লগ নয়, মেদিনীপুরের মানুষ থেকে বাইরে আটকে পড়া ভাইবোন, একাধিক বার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন দায়িত্ব। প্রয়োজনে সমালোচনা করেছেন সিস্টেমের, আবার কাজও করেও দেখিয়েছেন সেই সিস্টেমের মধ্যেই।

ডেস্টিনেশন আলাদা, চেনা গণ্ডীর বাইরে ভোট ময়দানে “রিয়্যালিটি শো” দেব-মিঠুনের! রাজনীতিতে আসতে না চেয়েও গত কয়েকবছরে ভালো রপ্ত করেছেন। ভরসা হয়ে উঠেছেন মানুষের। কাজ করেছেন মানুষের জন্য। নির্বাচনের প্রথম দফার আগে আজই শেষ প্রচার। গোটা বাংলায় আজ কার্যত হাইভোল্টেজ প্রচার। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, দেব তো অন্যদিকে অমিত শাহ্, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথ এবং মিঠুন চক্রবর্তী। এবারের প্রার্থী তালিকাতেও ছড়াছড়ি তারকার। তবে সবকিছু ছড়িয়ে আজ নিজেদের গ্রাউন্ড লেভেলের প্রচারে নজর কেড়েছেন মিঠুন আর দেব। দুজনেই কি দুজনকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন চ্যালেঞ্জ না নেওয়ার? প্রশ্ন থাকছেই…

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন